Tulu Mondal Latest Update: বীরভূমের বহুল আলোচিত ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলের আর্থিক সাম্রাজ্যের রহস্যভেদে এবার বিশেষ ভূমিকা নিচ্ছেন এক আইপিএস আধিকারিক, যিনি পুলিশে যোগ দেওয়ার আগে ছিলেন পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। টুলু মণ্ডলের বাজেয়াপ্ত হওয়া ল্যাপটপ, হার্ড ড্রাইভ এবং পেনড্রাইভে থাকা বিপুল আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বোলপুরের এসডিপিও অর্পিত আর পারেখকে। তদন্তকারীদের আশা, তাঁর আর্থিক ও হিসাবরক্ষণ সংক্রান্ত দক্ষতা এই মামলার জট খুলতে বড় ভূমিকা নেবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে উঠে এসেছে টুলু মণ্ডলের ব্যবসায়িক আর্থিক লেনদেনের সমস্ত হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন তাঁর হিসাবরক্ষক পিনাকী দেব। তাঁকে সহযোগিতা করতেন পার্থসারথি নামে আরও এক ব্যক্তি। এই দু’জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকেই উদ্ধার হয়েছে দুটি ল্যাপটপ, একাধিক পেনড্রাইভ এবং হার্ড ড্রাইভ, যেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তবে ডিজিটাল ডিভাইসগুলি হাতে পেলেও তদন্তে শুরু থেকেই বড় সমস্যার মুখে পড়তে হয় পুলিশকে। কারণ, আর্থিক লেনদেনের হিসাব কোনও সাধারণ ভাষায় লেখা ছিল না। হিসাবরক্ষকদের নিজস্ব সংক্ষিপ্ত রূপ, সাংকেতিক চিহ্ন এবং বিশেষ হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে নথিভুক্ত করা হয়েছিল সমস্ত তথ্য। ফলে সেই তথ্য উদ্ধার হলেও প্রতিটি লেনদেনের প্রকৃত অর্থ, টাকার উৎস এবং গন্তব্য নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করা সহজ হচ্ছিল না।
এই পরিস্থিতিতেই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় আইপিএস অর্পিত আর পারেখকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এখন হিসাবরক্ষকদের ব্যবহৃত সাংকেতিক ভাষার বিশ্লেষণ করছেন। পাশাপাশি ট্যালি সফটওয়্যার এবং এক্সেল শিটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনকে পুনর্গঠন করে তদন্তের উপযোগী নথি তৈরি করা হচ্ছে। এতে আর্থিক প্রবাহের সম্পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতেই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় আইপিএস অর্পিত আর পারেখকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এখন হিসাবরক্ষকদের ব্যবহৃত সাংকেতিক ভাষার বিশ্লেষণ করছেন। পাশাপাশি ট্যালি সফটওয়্যার এবং এক্সেল শিটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনকে পুনর্গঠন করে তদন্তের উপযোগী নথি তৈরি করা হচ্ছে। এতে আর্থিক প্রবাহের সম্পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
{{/usCountry}}জেলা পুলিশ সূত্রের দাবি, গত সাত দিন ধরে সিউড়ি থানায় বসেই এই বিশ্লেষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন অর্পিত পারেখ। একই সঙ্গে চলছে ধৃত হিসাবরক্ষকদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ। তাঁদের বয়ান এবং ডিজিটাল তথ্য মিলিয়ে পুরো আর্থিক নেটওয়ার্কের খোঁজ করার চেষ্টা চলছে।
তদন্তকারীদের আশঙ্কা, মিনার মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশের প্রথম অভিযানের খবর আগেই হিসাবরক্ষকদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে পুলিশের হাতে ডিজিটাল ডিভাইসগুলি পৌঁছানোর আগেই গুরুত্বপূর্ণ কোনও ফাইল মুছে ফেলা হয়েছে কি না, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এই কারণেই তদন্তে যুক্ত হয়েছে সিআইডির বিশেষ প্রযুক্তিগত দল। অত্যাধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক প্রযুক্তির সাহায্যে বাজেয়াপ্ত হওয়া ল্যাপটপ, হার্ড ড্রাইভ, পেনড্রাইভ এবং অন্যান্য স্টোরেজ ডিভাইসের তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মুছে ফেলা তথ্য ফের উদ্ধার করা সম্ভব কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের মতে, এই ডিজিটাল তথ্যের বিশ্লেষণ সম্পূর্ণ হলে টুলু মণ্ডলের আর্থিক সাম্রাজ্যের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি, অর্থের লেনদেনের ধরন এবং সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়ম সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। তাই এই মামলায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাজেয়াপ্ত হওয়া ডিজিটাল নথির ফরেনসিক বিশ্লেষণ।