নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় বাম ছাত্র সংগঠনের মিছিল ঘিরে হওয়া অশান্তির ঘটনায় তদন্তে আরও অগ্রগতি। মিছিলে ঢুকে পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগে আরও দু'জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। রবিবার রাতে কড়েয়া এলাকা থেকে ৩৫ বছর বয়সি ওয়াকার আজম এবং নদিয়া থেকে ৩২ বছর বয়সি জাভেদ আখতারকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার তাঁদের আদালতে তোলা হবে। একই সঙ্গে এদিন পুলিশ হেফাজতে থাকা পাঁচ অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকা মিছিলে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু মিছিল শেষ হওয়ার পর আচমকাই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতী পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে ইট, জলের বোতল এবং জুতো ছুড়ে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ করে কলকাতা পুলিশ।
তদন্তে নেমে পুলিশ দাবি করেছে, ধৃতদের অধিকাংশেরই ছাত্র পরিচয়ের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। বরং তাঁদের মধ্যে অনেকেই সমাজবিরোধী এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এরা ছাত্রদের ভিড়ে মিশে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে মিছিলে ঢুকেছিল।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। সোমবার তদন্তের স্বার্থে ধৃত পাঁচজনকে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শুক্রবারের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে পুলিশ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃত খালেদ রেজা এবং আফরোজ-সহ কয়েকজনকে খালি পায়ে হাঁটিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। মিছিল শেষ হওয়ার পর ঠিক কীভাবে অশান্তি ছড়িয়েছিল, কারা প্রথম হামলা চালিয়েছিল এবং কোন দিক থেকে পুলিশ ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়েছিল, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকরা অভিযুক্তদের বক্তব্য নথিবদ্ধ করেন এবং বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন।
{{/usCountry}}তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃত খালেদ রেজা এবং আফরোজ-সহ কয়েকজনকে খালি পায়ে হাঁটিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। মিছিল শেষ হওয়ার পর ঠিক কীভাবে অশান্তি ছড়িয়েছিল, কারা প্রথম হামলা চালিয়েছিল এবং কোন দিক থেকে পুলিশ ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়েছিল, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকরা অভিযুক্তদের বক্তব্য নথিবদ্ধ করেন এবং বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন।
{{/usCountry}}কলকাতা পুলিশের অনুমান, সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় এখনও আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে। তাদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ, সংবাদমাধ্যমের ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে, যার ভিত্তিতে আরও গ্রেফতারি হতে পারে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে একটি বিষয় প্রায় স্পষ্ট বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, যাঁরা ছাত্র পরিচয়ে মিছিলে ঢুকেছিলেন, তাঁদের বড় অংশই প্রকৃতপক্ষে ছাত্র নন। বরং তাঁরা সমাজবিরোধী চরিত্রের ব্যক্তি। এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, শুধুমাত্র আন্দোলনকে ভণ্ডুল করতেই কি তাঁদের ব্যবহার করা হয়েছিল, নাকি মিছিলের ভিড়ে মিশে আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছিল।
ধর্মতলার এই ঘটনার পর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নিরাপত্তা এবং বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।