...
...
Next Story

TMC internal conflict: TMCর অন্দরে কুরুক্ষেত্র! 'কুত্তা' মন্তব্য MP সুদীপের, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বেনজির সংঘাত

TMC internal conflict: বিতর্কের সূত্রপাত তৃণমূলের উত্তর কলকাতার অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘অঘোষিত সম্রাট’ বলে আক্রমণ করে পদ ছাড়ার দাবি জানান।

Updated on: May 10, 2026, 17:33:48 IST
Advertisement

TMC internal conflict: বাংলায় পালাবদলের পর তৃণমূল যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই দলের অন্দরের ফাটল কুরুক্ষেত্র রূপ নিল। এবার উত্তর কলকাতার ‘প্রভাবশালী’ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সৌজন্য দূরে সরিয়ে রেখে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একে অপরকে যে ভাষায় আক্রমণ করলেন, তা দেখে স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহল।

হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নজিরবিহীন সংঘাত

তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বেনজির সংঘাত
তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বেনজির সংঘাত

বিতর্কের সূত্রপাত তৃণমূলের উত্তর কলকাতার অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘অঘোষিত সম্রাট’ বলে আক্রমণ করে পদ ছাড়ার দাবি জানান। জানা যাচ্ছে, শনিবার রাতে তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়তে সম্বোধন করে লেখেন, 'আপনি উত্তর কলকাতার অঘোষিত সম্রাট। আপনার তো উচিত ছিল ঘরছাড়াদের ঘরে ঢোকানো। অথচ আপনি নিজেই ঘরে ঢুকে বসে আছেন।' সুদীপের দীর্ঘদিনের পদ আঁকড়ে থাকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'অনেক হয়েছে এবার ছাড়ুন। সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন।'

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ও পাল্টা সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়

এরপরেই সুব্রতকে জবাব দিতে মাঠে নামেন সুদীপ-ঘনিষ্ঠরা। শশী পাঁজার উদাহরণ টেনে সুদীপ ঘনিষ্ঠ সুনন্দা সরকার তাঁকে পালটা প্রশ্ন করে বলেন, ‘তোমার এমএলএ কী করছে? যাঁর এত পাওয়ার সে নিজের দলের কর্মীদের কেস দিয়ে থানায় বসিয়ে রাখত। এখন উনি কোথায়?' এর জবাবে সুব্রত বলেন, 'শশী পাঁজা আর এমএলএ নেই, কিন্তু সুদীপ দা এখনও এমপি আর উত্তর কলকাতার প্রেসিডেন্ট।' এই কথোপকথনের পর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটিতে সক্রিয় হন খোদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সুনন্দা সরকারকে জবাব দিয়ে লেখেন, 'সুনন্দা, এদেরকে একটাই উত্তর, হাতি চলে বাজার/কুত্তে ভোকে হাজার। জবাব দিও না, আমি দিয়ে দেব।' সুনন্দা ফের লেখেন, 'সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।' দলের কাউন্সিলরকে ‘কুত্তা’ সম্বোধন করতেই আগুনে যেন ঘৃতাহুতি পড়ে। ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিলেন না সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সপাটে পালটা দিয়ে তিনি লেখেন, 'দলের কাউন্সিলরকে যে কুত্তা বলে, সে ভুলে যাচ্ছে সে কুত্তার চেয়ারম্যান।' হোয়াটসঅ্যাপে সকলের কথোপকথনের ভাষা এমন, যা দেখে স্তম্ভিত সকলে। দলের মধ্যে এতটা কোন্দল আর তা এভাবে প্রকাশ্যে চলে এল! এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে।

কেন এই ‘ভিসুভিয়াস’ বিস্ফোরণ?

পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ: উত্তর কলকাতায় দলের ভরাডুবির পরেও সুদীপের স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার ‘ডেপুটি লিডার’ করায় ক্ষোভ বেড়েছে কর্মীদের মধ্যে।

নেতৃত্বের অভাব: তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, নির্বাচনের পর বিপদের দিনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে পাওয়া যাচ্ছে না।

অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুদীপকে সরিয়ে তাপস রায়কে উত্তর কলকাতার সভাপতি করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের সুদীপকে ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু এবার হারের পর সেই ক্ষোভ আর চেপে রাখতে পারছেন না তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। সুদীপ বনাম সুব্রত- এই লড়াই আদতে তৃণমূলের উত্তর কলকাতা সংগঠনের ভেঙে পড়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন। পাশাপাশি, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্য এবং উত্তরকে ‘বঞ্চনা’ করার এই ক্ষোভ যে কোনও সময় বড়সড় দলত্যাগের ঢেউ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রাজনৈতিক মহল।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe