ATS Raids TMC Leader's House: উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের রামেশ্বরপুরে বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-এর অভিযানে। মাদ্রাসা নির্মাণের নামে বিদেশ থেকে আসা কোটি কোটি টাকার অনুদান আত্মসাৎ এবং সম্ভাব্য জঙ্গি যোগের অভিযোগে তৃণমূল নেতা আব্দুল্লা গাজীর বাড়িতে তল্লাশি চালায় ATS। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে এই অভিযান। তদন্তে আর্থিক লেনদেন, বিদেশি অনুদানের উৎস এবং সেই অর্থের ব্যবহার খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, আব্দুল্লা গাজীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিদেশ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ এসেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ, সেই অর্থ মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য সংগ্রহ করা হলেও তার বড় অংশের ব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান উত্তরপ্রদেশ ATS-এর আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেন এবং বাড়ির ভিতরে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি আব্দুল্লা গাজীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এটি অবশ্য প্রথমবার নয়। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, একই মামলায় প্রায় দু'বছর আগেও উত্তরপ্রদেশ ATS আব্দুল্লা গাজীকে গ্রেফতার করেছিল। সেই মামলার তদন্ত এখনও চলছে। সম্প্রতি নতুন কিছু তথ্য ও নথি তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ফের এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তকারীরা আর্থিক লেনদেনের নথি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, বিদেশি অনুদানের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন।
যদিও এই অভিযানের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশ ATS-এর তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তদন্তের নির্দিষ্ট দিক বা কী ধরনের প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে, সে সম্পর্কে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
{{/usCountry}}যদিও এই অভিযানের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশ ATS-এর তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তদন্তের নির্দিষ্ট দিক বা কী ধরনের প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে, সে সম্পর্কে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
{{/usCountry}}শুধু হাসনাবাদেই নয়, তদন্তের স্বার্থে উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া-সহ রাজ্যের আরও কয়েকটি এলাকায় একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর। তদন্তে উত্তরপ্রদেশ ATS-এর পাশাপাশি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর আধিকারিকরাও অংশ নিয়েছেন বলে একাধিক সূত্রের দাবি। যদিও ED-এর পক্ষ থেকেও এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সকালের এই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রামেশ্বরপুর এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। বহু মানুষ ঘটনাস্থলের আশপাশে ভিড় জমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় পুলিশও মোতায়েন করা হয়। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিদেশি অনুদানের নামে সংগৃহীত অর্থের প্রকৃত ব্যবহার, সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আর্থিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই মামলায় নতুন করে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং অভিযোগগুলিও তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির উপরই নির্ভর করবে এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ।