...
...
Next Story

MLA Kunal Ghosh suspended: বিধানসভায় কুণাল-আখরুজ্জামান দ্বৈরথে তুলকালাম, মুহূর্তেই সাসপেন্ড বেলেঘাটার বিধায়ক

MLA Kunal Ghosh suspended: বুধবার বিধানসভায় একে একে বক্তব্য রাখছিলেন বিধায়কেরা। তাল কাটে আখরুজ্জামান বক্তব্যে রাখতে উঠলে। তাঁর বক্তব্যের মাঝেই, এগিয়ে যান কুণাল ঘোষ। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করতে উঠেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Published on: Jul 22, 2026, 17:08:56 IST
Advertisement

MLA Kunal Ghosh suspended: নজিরবিহীন ঘটনা বিধানসভার অন্দরে। দুই তৃণমূল কংগ্রেসের দ্বৈরথে তুলকালাম বিধানসভায়। বুধবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পন্থী তৃণমূলে যোগ দেওয়া বিধায়ক আখরুজ্জামানের দিকে তেড়ে যান কুণাল ঘোষ। কোনওক্রমে বেলেঘাটার বিধায়ককে নিরস্ত করেন অধিবেশন কক্ষে থাকা অন্যান্য বিধায়করা। শেষ পর্যন্ত অধ্যক্ষের নির্দেশে মার্শালরা কার্যত চ্যাংদোলা করে কুণাল ঘোষকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দেন। তাঁকে এ দিনের মতো বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করারও নির্দেশ দিয়েছেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, 'এমন অসভ্যতা দেখিনি। তীব্র নিন্দা জানাই।'

ঠিক কী ঘটেছিল?

সাসপেন্ড বেলেঘাটার বিধায়ক (সৌজন্যে টুইটার)
সাসপেন্ড বেলেঘাটার বিধায়ক (সৌজন্যে টুইটার)

বিধানসভা গঠন হওয়ার পর থেকেই দুই তৃণমূলের সংঘাত বারবার সামনে এসেছে। বিধানসভায় বিরোধীদল হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে ঋতব্রতের দল। মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান। বুধবার বিধানসভায় একে একে বক্তব্য রাখছিলেন বিধায়কেরা। তাল কাটে আখরুজ্জামান বক্তব্যে রাখতে উঠলে। তাঁর বক্তব্যের মাঝেই, এগিয়ে যান কুণাল ঘোষ। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করতে উঠেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই হইচইয়ের সূত্রপাত। ঘটনার প্রতিবাদ করেন বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক পাশাপাশি বিজেপির মন্ত্রীরা। ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ করেন মন্ত্রী শংকর ঘোষ, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়রা। বাদ-বিবাদের মাত্রা বাড়লে, এক সময় কুণালকে বিধানসভার কক্ষের মধ্যেই মার্শালদের টেনে-হিঁচড়ে বের করতে দেখা যায়। বিধানসভার স্পিকের নির্দেশ দিলে মার্শালরা তাঁকে বের করে দেন।

অধিবেশনের মাঝেই এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য বিধানসভার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন ঘটনা নজিরবিহীন। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের তরফে পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিধানসভায় কালীঘাটপন্থী তৃণমূূল বিধায়কদের বলতে দেওয়া হচ্ছে না বারবার অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের দাবি, যে লিস্ট পাঠানো হচ্ছে, তাতে কুণাল ঘোষের নাম থাকলেও মুখ্য সচেতক সেই নাম কেটে দিচ্ছেন। অন্য নাম যুক্ত করা হচ্ছে। আগেই প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এদিন বিধানসভার প্রথমার্ধে একই অভিযোগ তুলেছিলেন কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ। তখন তাঁদের ঝামেলা, ঘরে মেটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপরই দ্বিতীয়ার্ধে আখরুজ্জামান বলতে উঠলে তাঁকে বাধা দেন কুণাল ঘোষ। পরে আখরুজ্জমান বলেন, '৮০ জন বিধায়ক রয়েছে। সবাইকে বলতে দিলে সময় হবে না। আমরা ঠিক করব, কে বলবে বা কে বলবে না।'

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে, রাজ্যে নারী-নিগ্রহ রুখতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশকে ঠিক কী নির্দেশ দিলেন তিনি? মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশকে সব মিটিংয়ে বলেছি কোনও কন্যা, মহিলার উপরে যদি কিছু হয়, কারও নির্দেশের জন্য অপেক্ষার দরকার নেই, যা করার করে দেবেন। ঢাল হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী প্রোটেক্ট করবে।’ তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে সবচেয়ে জঘন্যতম ঘটনা আর জি কর। সেই ঘটনার সঠিত তদন্ত হয়নি বলেই বারবার অভিযোগ করেছিলেন আরজি করের নির্যাতিতার মা। রাজ্যে পালাবদলের পর খুলেছে সেই আরজি কর ফাইলস। সাসপেন্ড হয়েছেন তিনজন আইপিএস। মেডিক্যাল মেম্বারশিপ বাতিল করা হয়েছে সন্দীপ ঘোষ ও বিরুপাক্ষ বিশ্বাসদের। আরজি করের বিষয়ে আজ, বুধবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, 'আরজি কর নিয়ে যা করার করব। কাউকে রেয়াত করব না। তিনজন আইপিএস সাসপেন্ড হয়েছেন। সন্দীপ-বিরুপাক্ষদের ছাড়েনি। ধীরে ধীরে আর জি কর নিয়ে আরও বড় তদন্ত হবে। যা করার করব। অভয়া কাণ্ডের বিচার করব।'

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe