বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (ডিয়ারনেস অ্যালোওয়েন্স বা ডিএ) রায় নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে রাজ্য সরকার? সেরকমই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম এই সময়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বকেয়া ডিএ মামলায় যে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, তা নিয়ে মামলা দায়ের করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে রাজ্যের তরফে কী কী যুক্তি তুলে ধরা হবে, কীভাবে মামলার ঘুঁটি সাজানো হবে, তা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্র উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সময় পাওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাবে রাজ্য সরকার?

সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের ধারণা, যদি বকেয়া ডিএ মামলার রায় নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার, সেটার উদ্দেশ্য থাকবে মূলত কিছুটা সময় আদায় করে নেওয়া। কারণ সামনেই বিধানসভা নির্বাচন আছে। তার আগে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে (ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট) একগুচ্ছ জনমোহিনী প্রকল্পের উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদেরও চার শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে সরকার। সবমিলিয়ে রাজ্যের কোষাগার থেকে বড় অঙ্কের টাকা বেরিয়ে যাবে। সেই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে বকেয়া ডিএয়ের ২৫ শতাংশ মেটানো কঠিন। তাতে জনমুখী প্রকল্প ধাক্কা খেতে পারে। ভোটে বিরূপ প্রভাব পড়তেও পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
অতীতে রাজ্যের তরফে সুপ্রিম কোর্ট যে পরিসংখ্যান পেশ করা হয়েছিল, তাতে কলকাতা হাইকোর্টের রায় মতো রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে কোষাগার থেকে প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা বেরিয়ে যাবে। আর অবিলম্বে যেহেতু ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট, তাই সেটা দিতে গেলে মোটামুটি ১০,০০০ টাকা কোটি টাকার মতো লাগবে। সেই পরিস্থিতিতে আরও কিছুটা সময় আদায় করে নিতে রাজ্য সরকার ফের সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাকা রাজ্য সরকারি কর্মীদের
যদিও বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে আপাতত কোনও মন্তব্য করা হয়নি। রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা অবশ্য নিজেদের মতো ঘুঁটি সাজাচ্ছেন। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেছেন, ‘ভারতবর্ষের মধ্যকার একটা প্রদেশ পশ্চিমবঙ্গ, তার সরকার যখন সুপ্রিম কোর্টের রায়কেও মান্যতা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না, তখন এই রাজ্যে বসবাসকারী সমস্ত শিক্ষিত মানুষের সম্মিলিত প্রতিবাদ আছড়ে পড়া উচিত এই সরকারের উপরে। এই প্রতিবাদের মধ্যে কোনও দলীয় সংকীর্ণতার প্রতিবন্ধকতা আসা উচিত নয়।’
ঘুঁটি সাজাচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা
{{/usCountry}}যদিও বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে আপাতত কোনও মন্তব্য করা হয়নি। রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা অবশ্য নিজেদের মতো ঘুঁটি সাজাচ্ছেন। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেছেন, ‘ভারতবর্ষের মধ্যকার একটা প্রদেশ পশ্চিমবঙ্গ, তার সরকার যখন সুপ্রিম কোর্টের রায়কেও মান্যতা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না, তখন এই রাজ্যে বসবাসকারী সমস্ত শিক্ষিত মানুষের সম্মিলিত প্রতিবাদ আছড়ে পড়া উচিত এই সরকারের উপরে। এই প্রতিবাদের মধ্যে কোনও দলীয় সংকীর্ণতার প্রতিবন্ধকতা আসা উচিত নয়।’
ঘুঁটি সাজাচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা
{{/usCountry}}সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ তৎক্ষণাৎ এবং বাকি ৭৫ শতাংশের প্রথম কিস্তি ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। কর্মচারীদের এই হকের পাওনা আদায় করার জন্য ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে পথে নেমেছিলেন এই রাজ্যের সমস্ত স্তরের শিক্ষক, কর্মচারী ও পেনশনাররা। এই অবস্থায় এই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ ও যৌথ মঞ্চ (রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটি পরিচালিত) আলোচনায় বসেছিল ভবিষ্যত আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে। আশা করি, আগামিদিনে ঐক্যবদ্ধ কর্মচারী প্রতিবাদের সম্মুখীন হতে হবে এই কাটমানিখোর সরকারকে।’