রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে তিনি জানান, বয়স্ক, বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং বিধবা ভাতার পরিমাণ মাসিক ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম এবং অন্য কোনও সামাজিক প্রকল্পের আওতাভুক্ত না হলে মিলবে টাকা। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য মাসিক পেনশন চালু এবং মিথ্যা মামলায় কারাবাস করা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে 'ভরসা' কর্মসূচিতে স্নাতক বেকারদের জন্য ৩ হাজার এবং অন্যান্য ২ হাজার টাকা বরাদ্দ।

অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে সমাজের বিভিন্ন প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় লক্ষ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক, বিধবা মহিলা এবং বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ভাতা পেয়ে থাকেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরেই ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি উঠছিল। সেই প্রেক্ষাপটে মাসিক ৫০০ টাকা ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাজেটে আরও একটি উল্লেখযোগ্য ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘদিন কাজ করার পর অবসর নেওয়া সাংবাদিকদের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকার পেনশন চালু করা হবে। সরকারের দাবি, গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অবসরের পর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বহু সাংবাদিক কর্মজীবনের শেষে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। নতুন এই পেনশন প্রকল্প তাঁদের জন্য কিছুটা হলেও সহায়ক হবে বলে মনে করছে সরকার।
সাংবাদিক মহলের একাংশ ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের মতে, সাংবাদিকতার পেশার প্রতি সরকারের স্বীকৃতি এবং অবসরপ্রাপ্ত সংবাদকর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
{{/usCountry}}সাংবাদিক মহলের একাংশ ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের মতে, সাংবাদিকতার পেশার প্রতি সরকারের স্বীকৃতি এবং অবসরপ্রাপ্ত সংবাদকর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
{{/usCountry}}এছাড়াও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী জানান, যাঁরা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাবাস করেছেন এবং পরে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য ব্যক্তিরা মাসিক ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য পাবেন। সরকারের বক্তব্য, অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের সামাজিক ও আর্থিক পুনর্বাসনে সাহায্য করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভাতা বৃদ্ধি, সাংবাদিক পেনশন এবং বিশেষ আর্থিক সহায়তার মতো ঘোষণাগুলি সরকারের জনমুখী ভাবমূর্তিকে আরও জোরদার করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।