ভোটের আগে আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে তৃণমূলে ভাঙন ধরাল বিজেপি। এদিকে গোসাবাতেও ঘাসফুল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন নেতা। রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং-১ ব্লকের তৃণমূল ব্লক সভাপতি তথা জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহ-সভাপতি শৈবাল লাহরীর হাত ধরে একাধিক নেতাকর্মী বিজেপিতে যোগ দেন। দলবদল করা এই নেতারা স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী বলে দাবি করা হচ্ছে। দলবদল করা নেতাদের অভিযোগ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, দুর্নীতি আর স্বজনপোষণের জেরে তাঁদের দমবন্ধ হয়ে আসছিল তৃণমূলে। এলাকায় ঘাসফুল শিবিরের একটা অংশ তোলাবাজি এবং ভয়ের রাজনীতি ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

জানা গিয়েছে, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানকারী নেতারা হলেন বাঁশড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান অঞ্চল সভাপতি ও প্রাক্তন প্রধান বিজন কৃষ্ণ মণ্ডল, ইটখোলা অঞ্চলের বর্তমান সভাপতি ও প্রাক্তন প্রধান খতিব সরদার, গোপালপুর অঞ্চলের বর্তমান সভাপতি আসমত মোল্লা, দিঘিরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪ বারের প্রাক্তন প্রধান অর্ণব রায়, হাটপুকুরিয়া জিপি-র দীর্ঘদিনের প্রাক্তন প্রধান প্রতিমা সরদার, ক্যানিং-১ ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বর্তমান সভাপতি সুমিত ঘোষ, বাঁশড়ার প্রাক্তন উপপ্রধান সিরাজ উদ্দিন দেওয়ান, নিগারিঘাটার তৃণমূলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক শেখ, গোপালপুরের প্রাক্তন প্রধান নন্দকিশোর সরদার, প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ বদরোদ্দোজা শেখ।
এদিকে তৃণমূল ছেড়ে এত স্থানীয় নেতাকর্মী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'মানুষ আর তৃণমূলের অত্যাচার ও স্বজনপোষণ সহ্য করতে পারছেন না। তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা লগ্নে যাঁরা নিজেদের রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে দলটাকে দাঁড় করিয়েছিলেন, আজ তাঁদেরই নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। দলের পুরনো ও অভিজ্ঞ মুখদের সরিয়ে এখন বাবুল সুপ্রিয় বা কোয়েল মল্লিকের মতো আনাড়িদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা শূন্য, তাঁদেরই মাথায় নিয়ে নাচছে তৃণমূল।'