বিধানসভা ভোটের পর এ বার নজর নতুন প্রজন্মের দিকে। বাংলার সংগঠনে জেন জি বা নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের আরও বেশি করে টানতে চাইছে বিজেপি। দলের বিভিন্ন কমিটিতে তরুণ মুখ বাড়ানোর নির্দেশ এসেছে দিল্লি থেকে। যুব মোর্চা থেকে মহিলা মোর্চা, জেলা সংগঠন থেকে বুথ স্তর, সর্বত্রই নতুন প্রজন্মকে সামনে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। লক্ষ্য শুধু সংগঠনে নতুন মুখ আনা নয়, আগামী দিনের জন্য নতুন নেতৃত্ব তৈরি করাও।
জেলা কমিটিতেও আসছে বদল

সম্প্রতি রাজ্যের সাতটি জেলায় বিজেপির সভাপতি বদল হয়েছে। এ বার ওই জেলাগুলিতে নতুন করে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাশাপাশি যুব এবং মহিলা মোর্চার পূর্ণাঙ্গ কমিটিও তৈরি করা হবে। স্বাভাবিক ভাবেই যুব সংগঠনে তরুণদের উপস্থিতি বাড়বে। মহিলা মোর্চার বিভিন্ন স্তরের কমিটিতেও অপেক্ষাকৃত কম বয়সি মুখকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, নতুন প্রজন্ম এখন আগের মতো শুধু প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষায় সাড়া দেয় না। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরনও বদলেছে। সেই কারণে সংগঠনের ভিতরেই তরুণদের বেশি জায়গা দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
প্রতি বুথে ১০০ তরুণের লক্ষ্য
বঙ্গ বিজেপির যুব মোর্চার নতুন রাজ্য সভাপতি তথা আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা জানিয়েছেন। তাঁর লক্ষ্য, প্রতিটি বুথে অন্তত ১০০ জন করে রাষ্ট্রবাদী যুব কার্যকর্তা তৈরি করা।
এই কর্মীরা শুধু দলীয় প্রচারে থাকবেন না। সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের খবর পৌঁছে দেওয়া, মানুষ প্রকল্পের সুবিধা ঠিক ভাবে পাচ্ছেন কি না তা দেখা এবং স্থানীয় স্তরে মানুষের সমস্যার কথা শোনা হবে তাঁদের অন্যতম কাজ। অর্থাৎ বুথ সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি জনসংযোগের ক্ষেত্রেও এই তরুণ বাহিনীকে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি।
শুধু সংগঠন নয়, রাজনৈতিক ভাবনার প্রশিক্ষণ
অমিতের পরিকল্পনায় শুধু কর্মী তৈরি করাই লক্ষ্য নয়। তরুণ কার্যকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ এবং পাঠচক্রের ব্যবস্থাও করার কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রবাদ, দেশপ্রেম এবং দলের রাজনৈতিক ভাবনা সম্পর্কে তাঁদের বোঝাতে বই দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে যুব মোর্চার।
{{/usCountry}}অমিতের পরিকল্পনায় শুধু কর্মী তৈরি করাই লক্ষ্য নয়। তরুণ কার্যকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ এবং পাঠচক্রের ব্যবস্থাও করার কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রবাদ, দেশপ্রেম এবং দলের রাজনৈতিক ভাবনা সম্পর্কে তাঁদের বোঝাতে বই দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে যুব মোর্চার।
{{/usCountry}}দলের অন্দরমহলের ব্যাখ্যা, নতুন প্রজন্মকে রাজনীতিতে আনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব তৈরির জন্য এই প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনে এই তরুণদের মধ্য থেকেই বুথ, মণ্ডল, জেলা এবং রাজ্য স্তরে নেতৃত্ব উঠে আসতে পারে।
জেন জিকে নিয়ে বিজেপির এত ভাবনা কেন
নিটের প্রশ্ন ফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে তরুণ আন্দোলন হয়েছিল, তার পরেই রাজনৈতিক দলগুলির নজরে আসে জেন জি। সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরোধিতার আন্দোলনেও তরুণদের একটি অংশকে পথে নামতে দেখা গিয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক মনোভাব কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে বিজেপির অন্দরেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে, শুধু প্রচলিত সংগঠন দিয়ে এই প্রজন্মকে ধরে রাখা যাবে না। তাঁদের ভাষায় কথা বলতে হবে, তাঁদের সমস্যার কথা শুনতে হবে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত করতে হবে।
চাকরি এবং শিল্পকেও প্রচারের হাতিয়ার
তরুণদের কাছে পৌঁছতে শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, কর্মসংস্থানের প্রশ্নেও জোর দিতে চাইছে বিজেপি। অমিত সামন্ত জানিয়েছেন, রাজ্যে শিল্প ও নিয়োগের যে উদ্যোগ চলছে, তার সুফল যুব সমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়াও যুব মোর্চার অন্যতম কাজ হবে।
অর্থাৎ এক দিকে বুথে বুথে নতুন কর্মী তৈরি, অন্য দিকে চাকরি, শিল্প এবং সরকারি প্রকল্প নিয়ে প্রচার। সব মিলিয়ে জেন জিকে ঘিরে বঙ্গ বিজেপির নতুন সংগঠন কৌশল তৈরি হচ্ছে। এখন দেখার, বুথে বুথে ১০০ তরুণের এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং নতুন প্রজন্মকে সংগঠনের সঙ্গে কতটা স্থায়ী ভাবে যুক্ত করতে পারে বিজেপি।