রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে শিক্ষা ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে তিনি জানান, ঝাড়গ্রামে দুটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি রাজ্যে একটি আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কাঁথি, কালিয়াচক এবং ফলতায় তিনটি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে শিক্ষা পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঝাড়গ্রামে দুটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় চালু হলে জঙ্গলমহল এলাকার ছাত্রছাত্রীরা আধুনিক ও উন্নত মানের শিক্ষার সুযোগ পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের দাবি উঠছিল। নতুন এই উদ্যোগ স্থানীয় পরিবারগুলির জন্য বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে।
বাজেটের অন্যতম আকর্ষণ আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা। রাজ্যের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার শিক্ষার প্রসার, গবেষণা এবং সংস্কৃতির সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিয়েই এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আদিবাসী সমাজের ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি এবং উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে বিশেষ গবেষণার সুযোগও সেখানে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে নারী শিক্ষার প্রসারে বড় পদক্ষেপ হিসেবে কাঁথি, কালিয়াচক এবং ফলতায় পৃথক মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ও উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে সরকারের দাবি। ছাত্রীদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বাজেটে। অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যের সমস্ত স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে। এর ফলে ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্কুলে উপস্থিতির হারও বাড়বে বলে মনে করছে শিক্ষা মহল।
এছাড়াও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি বড় আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ও সরকারি পোষিত কলেজের পড়ুয়াদের এককালীন ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে। অর্থনৈতিক কারণে যাতে মেধাবী পড়ুয়াদের স্বপ্ন থমকে না যায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে, স্কুল শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রস্তুতি— প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন সরকারের বাজেট শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বলেই মনে করছে শিক্ষামহল।
{{/usCountry}}এছাড়াও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি বড় আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ও সরকারি পোষিত কলেজের পড়ুয়াদের এককালীন ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে। অর্থনৈতিক কারণে যাতে মেধাবী পড়ুয়াদের স্বপ্ন থমকে না যায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে, স্কুল শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রস্তুতি— প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন সরকারের বাজেট শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বলেই মনে করছে শিক্ষামহল।
{{/usCountry}}