...
...
Next Story

WB By-Election: 'কোনও উপনির্বাচনেই জয়ের সম্ভাবনা নেই বুঝে তৃণমূল আগেভাগে প্রার্থী দিয়ে প্রচারে থাকতে চাইছে'

দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, তৃণমূলের ক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ নিয়মনীতি নেই। তাঁর কথায়, দল চাইলে ‘বাড়ির চাকর-বাকরকেও’ প্রার্থী করে দিতে পারে। কিন্তু বিজেপিতে প্রার্থী নির্বাচনের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠকের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Published on: Sep 14, 2026, 14:04:09 IST
Advertisement

রাজ্যের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী ঘোষণা করতেই মমতার দলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর দাবি, দুই আসনে জয়ের সম্ভাবনা নেই বুঝেই তৃণমূল আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারের আলোয় থাকতে চাইছে। তবে বিজেপি কোনও তাড়াহুড়ো করবে না। দলের নিজস্ব নিয়ম মেনেই যথাসময়ে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Kolkata, Aug 31 (ANI): West Bengal Panchayat Minister Dilip Ghosh officially launches the outbound onion trucks under the supervision of NAFED at Khadya Bhavan, in Kolkata on Monday. (ANI Photo) (Saikat Paul )
Kolkata, Aug 31 (ANI): West Bengal Panchayat Minister Dilip Ghosh officially launches the outbound onion trucks under the supervision of NAFED at Khadya Bhavan, in Kolkata on Monday. (ANI Photo) (Saikat Paul )

দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, তৃণমূলের ক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ নিয়মনীতি নেই। তাঁর কথায়, দল চাইলে ‘বাড়ির চাকর-বাকরকেও’ প্রার্থী করে দিতে পারে। কিন্তু বিজেপিতে প্রার্থী নির্বাচনের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠকের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক উপনির্বাচন হচ্ছে, তাই সবকিছু বিচার করেই দলের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে দাবি করেন তিনি।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—এই দুই কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণাকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছিল। প্রতীকের মালিকানা নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে বিরোধের আবহের মধ্যেই রবিবার কালীঘাট তৃণমূল দুই কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে।

নন্দীগ্রাম কেন্দ্র নিয়ে সবচেয়ে বেশি জল্পনা ছিল। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্র থেকে ফের লড়াই করতে পারেন। ঋতব্রত-পন্থী তৃণমূলের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল, মমতা প্রার্থী হলে তাঁরা আলাদা প্রার্থী দেবেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মমতা নিজে প্রার্থী হননি। কালীঘাট শিবির সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করায় সেই জল্পনার অবসান হয়েছে।

তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে প্রতীক নিয়ে চলা বিরোধ নিয়েও মুখ খুলেছেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোনও প্রতীক-সংক্রান্ত লড়াই ছিল না। তবুও তৃণমূল প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি। তাই প্রতীক নয়, মানুষের কাছে দলের সংস্কৃতি, কাজকর্ম এবং রাজনৈতিক চরিত্রই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেছেন তিনি।

তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট, আসন্ন উপনির্বাচনকে শুধুমাত্র দুই কেন্দ্রের লড়াই হিসেবে দেখছে না বিজেপি। তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, দুই শিবিরের দ্বন্দ্ব এবং ভোটারদের মনোভাব—সবকিছুকেই রাজনৈতিক প্রচারের অংশ করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

এদিকে গণেশ চতুর্থী উপলক্ষেও রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন অলিগলিতে গণেশের উপস্থিতি বেড়েছে, এবং এই উৎসব শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আসবে। গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, উন্নয়নের বদলে বাংলায় এখনও অনেক সময় আমিষ-নিরামিষের মতো বিষয় নিয়ে বিতর্ক বেশি হচ্ছে। তাঁর কথায়, গণেশই সবাইকে এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করবেন।

দিলীপের এই বক্তব্যে একইসঙ্গে ধর্মীয় আবেগ এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি—দুই বিষয়ই উঠে এসেছে। উপনির্বাচনের আগে তাঁর আক্রমণের মূল লক্ষ্য যেমন তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, তেমনই উৎসবের আবহে বাংলার উন্নয়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এখন নজর, বিজেপি কবে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে এবং শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রতীকের লড়াই ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে। দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী তালিকা স্পষ্ট হওয়ার পর রাজনৈতিক লড়াই আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks