রাজ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো গড়ার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগোল পশ্চিমবঙ্গ। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে বড় মাপের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কারখানা গড়তে জুপিটার ডিফেন্সকে প্রায় ২৫৬ একর জমি দিল রাজ্য সরকার। বুধবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘অ্যালটমেন্ট অব ল্যান্ড ফর ইন্ডাস্ট্রি’ অনুষ্ঠানে এই জমি দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়।

জঙ্গল সুন্দরী কর্মনগরী ফেজ-২ শিল্প পার্কে তৈরি হবে এই প্রকল্প। রাজ্য সরকারের শিল্প দফতরের পরিকল্পনায় রঘুনাথপুরকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রঘুনাথপুরের শিল্প পার্কটি প্রায় ১,৯২৪ একর জমির উপরে তৈরি হচ্ছে। এলাকার সঙ্গে রাজ্য সড়ক ও রেল যোগাযোগ রয়েছে। কাছেই রয়েছে আদ্রা জংশন, আর জাতীয় সড়ক ১৯-ও খুব দূরে নয়। ফলে বড় শিল্প প্রকল্পের জন্য এই এলাকাকে উপযোগী বলেই মনে করা হচ্ছে।
এ বার সেই শিল্প পরিকাঠামোয় যুক্ত হতে চলেছে প্রতিরক্ষা উৎপাদন। জুপিটার ডিফেন্স, জুপিটার ওয়াগনস গোষ্ঠীরই একটি অংশ। এত দিন মূলত রেলওয়ে সংক্রান্ত উৎপাদনের জন্য পরিচিত এই গোষ্ঠী সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষা-সহ আরও কয়েকটি শিল্পক্ষেত্রে ব্যবসা বাড়াচ্ছে। পুরুলিয়ায় প্রস্তাবিত কারখানাটি সেই সম্প্রসারণ পরিকল্পনারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে সংস্থা জানিয়েছে।
এই প্রকল্পের হাত ধরে পুরুলিয়ায় শুধুমাত্র একটি বড় কারখানা তৈরির সম্ভাবনাই নয়, তার সঙ্গে একটি সম্পূর্ণ সরবরাহ-শৃঙ্খল গড়ে ওঠার সুযোগও তৈরি হতে পারে। বড় প্রতিরক্ষা কারখানার সঙ্গে ছোট ও মাঝারি শিল্প, যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক এবং বিভিন্ন সহায়ক সংস্থা যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। জুপিটার ওয়াগনসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিবেক লোহিয়ার বক্তব্য, এই প্রকল্প দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করবে।
দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে গত কয়েক বছর ধরেই। আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে উৎপাদন বাড়ানোই সেই নীতির অন্যতম লক্ষ্য। জুপিটার ডিফেন্সের পুরুলিয়া প্রকল্পকেও সংস্থার তরফে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
{{/usCountry}}দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে গত কয়েক বছর ধরেই। আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে উৎপাদন বাড়ানোই সেই নীতির অন্যতম লক্ষ্য। জুপিটার ডিফেন্সের পুরুলিয়া প্রকল্পকেও সংস্থার তরফে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
{{/usCountry}}রাজ্যের শিল্প মানচিত্রেও রঘুনাথপুরের গুরুত্ব বাড়ছে। কলকাতার বাইরে নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় জমি ও পরিকাঠামো তৈরি করছে রাজ্য। রঘুনাথপুরে সড়ক, বিদ্যুৎ, জল, নিকাশি এবং অন্যান্য শিল্প-সহায়ক ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। শিল্প পার্কটির যোগাযোগ ব্যবস্থার আর একটি সুবিধা হল ইস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর কাছাকাছি হওয়া। পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে যা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রাজ্যের প্রতিরক্ষা শিল্পে এই উদ্যোগ কতটা বড় পরিসর নেয়, তা অবশ্য নির্ভর করবে পরবর্তী বিনিয়োগ, কারখানা নির্মাণ এবং উৎপাদন শুরুর উপর। তবে ২৫৬ একর জমি বরাদ্দের মাধ্যমে পুরুলিয়ায় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের জন্য একটি বড় জমি-ভিত্তিক প্রকল্পের দরজা খুলে গেল। শিল্প, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় ব্যবসার ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেদিকেই নজর।