বিধানসভা ভোটের প্রশিক্ষণ চলাকালীন শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ রানাঘাটে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২ সরকারি কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এমনকী কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে বিডিও-কেও। জানা গিয়েছে, রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউশনে ঘটনাটি ঘটেছে। দাবি করা হচ্ছে, প্রশিক্ষণের সময় রাজ্য সরকারের প্রচারমূলক ভিডিয়ো দেখানো হচ্ছিল। সেই সময় সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে এক শিক্ষক এর প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ করে এভাবে সরকারের প্রচার করা ঠিক নয়। এই প্রতিবাদ করায় তাঁকে মারধর করা হয়। সৈকতবাবুর ডান চোখের ওপর ক্ষত হয়। সেখান থেকে রক্তপাত হয়। এই ঘটনায় বিডিও অফিসের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে মারধরের পরে রক্তাক্ত অবস্থায় সৈকতবাবুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে প্রশিক্ষণে যাওয়া শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন সেখান থাকা শতাধিক ভোটকর্মী। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে জেলা প্রশাসন। এরপরই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। যদিও নদিয়ার জেলাশাসকের দাবি, ভুলবশত মুখ্যমন্ত্রীর ভিডিয়ো চালানো হয়েছিল প্রশিক্ষণকেন্দ্রে। তবে তিনি বলেন, 'এই ধরনের যে কোনও ভুলই বিধিভঙ্গের শামিল।'
এিকে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। জেলাশাসক জানান, বিডিও-র উপস্থিতিতে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বিডিও-র বিরুদ্ধে কর্তব্য পালনে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ভোটকর্মীদের বিক্ষোভের আবহে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সেখানে। বিক্ষোভরত সরকারি শিক্ষকের দাবি, অভিযুক্ত বিডিও অফিসের কর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এই আবহে শান্তি বজায় রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। এই গোটা ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে।