পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন বা 'পিউরিফিকেশন' প্রক্রিয়ায় এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন (EC)। বুধবার কলকাতার এক শীর্ষ নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৬ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মৃত, পরিযায়ী এবং দ্বৈত ভোটারদের পাশাপাশি 'অস্তিত্বহীন' ভোটারদের নামও রয়েছে। কমিশনের এই বিশাল মাপের শুদ্ধিকরণ অভিযান রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

স্ক্রুটিনিতে ধরা পড়ল বড়সড় গরমিল
কমিশন সূত্রে খবর, বর্তমানে 'অ্যাডজুডিকেশন' বা বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার অধীনে থাকা ৩২ লক্ষ নামের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই বাতিল করা হয়েছে। সংখ্যার হিসেবে যা প্রায় ১৩ লক্ষ। এর আগে এসআইআর (SIR) বা বিশেষ তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল। সব মিলিয়ে রাজ্যে মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬ লক্ষ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক গণনার পর রাজ্যের মোট যোগ্য ভোটারের সংখ্যা ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে ৭.০৮ কোটি হয়েছিল। পরবর্তীতে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় এই সংখ্যা আরও কমে ৭.০৪ কোটিতে নেমে আসে। এই প্রক্রিয়ায় মূলত মৃত্যু, স্থায়ী স্থানাস্তর এবং একই ব্যক্তির একাধিক জায়গায় নাম থাকার কারণে নামগুলো কাটা হয়েছে।
আইনি লড়াই ও সাপ্লিমেন্টারি লিস্টের জটিলতা
সোমবার নির্বাচন কমিশন তাদের প্রথম 'সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট' বা পরিপূরক তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে প্রায় ১০ লক্ষ নাম আপলোড করা হলেও ঠিক কতজনের নাম বাদ গিয়েছে, তা নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রেখেছে কমিশন। এই স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, প্রায় ২৯ লক্ষ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে ই-সাইন (e-sign) অথেন্টিকেশনের মতো প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সব নাম প্রথম তালিকায় প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে রাজ্যে ৭০৫ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এই কাজ চালাচ্ছেন। এখনও প্রায় ২৮ লক্ষ কেস নিষ্পত্তি হওয়া বাকি।
{{/usCountry}}রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, প্রায় ২৯ লক্ষ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে ই-সাইন (e-sign) অথেন্টিকেশনের মতো প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সব নাম প্রথম তালিকায় প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে রাজ্যে ৭০৫ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এই কাজ চালাচ্ছেন। এখনও প্রায় ২৮ লক্ষ কেস নিষ্পত্তি হওয়া বাকি।
{{/usCountry}}