রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রথম বাজেট পেশ করে ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে নতুন বিজেপি সরকার। বাজেটে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা নিয়ে যেমন প্রশংসা হয়েছে, তেমনই বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে এত বিপুল অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে। এই আবহেই কলকাতায় আসন্ন জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠককে ঘিরে নতুন বার্তা দিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গকে আবারও জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ফিরিয়ে আনাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে কলকাতায় জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক হওয়ার কথা। এই বৈঠকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বৈঠক প্রসঙ্গে স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, 'সারা ভারত আজ পশ্চিমবঙ্গের দিকে তাকিয়ে আছে। সবাই দেখছে, রাজ্যে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সহযোগিতার আগ্রহও দেখা যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এই বৈঠকের আয়োজক হতে পারা আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা চাই, পশ্চিমবঙ্গ তার হারানো মর্যাদা ও গুরুত্ব আবার ফিরে পাক।'
তিনি আরও বলেন, এই সম্মেলন শুধুমাত্র কর-ব্যবস্থা সংক্রান্ত বৈঠক নয়, বরং জাতীয় অর্থনৈতিক পরিসরে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার একটি বড় সুযোগ। রাজ্যের ভাবমূর্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তাঁর আশা।
এদিকে, বাজেটে বিপুল বরাদ্দ নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় বলেন, অতীতে বিভিন্ন খাতে রাজস্বের সঠিক ব্যবহার হয়নি। এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে। বিশেষ করে বীরভূমের পাথর খাদান থেকে রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সরকারের মতে, রাজস্ব সংগ্রহের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা সম্ভব হবে।
অর্থমন্ত্রী এদিন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ট্রাম পরিষেবার বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। রাসবিহারী কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে তিনি জানান, তাঁর এলাকায় ট্রাম পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এটি পরিবহণ দফতরের বিষয়, তবুও তিনি পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান। তাঁর আশা, কলকাতার ঐতিহ্য রক্ষায় ট্রাম পরিষেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
{{/usCountry}}অর্থমন্ত্রী এদিন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ট্রাম পরিষেবার বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। রাসবিহারী কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে তিনি জানান, তাঁর এলাকায় ট্রাম পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এটি পরিবহণ দফতরের বিষয়, তবুও তিনি পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান। তাঁর আশা, কলকাতার ঐতিহ্য রক্ষায় ট্রাম পরিষেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
{{/usCountry}}শিক্ষাক্ষেত্র নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুর্নীতি, অগোছালো প্রশাসন এবং শিক্ষার পরিবেশের অবনতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। এর ফলে বহু মেধাবী পড়ুয়া রাজ্যের বাইরে উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এই পরিস্থিতি বদলাতে শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলাও জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাজ্যের অর্থনীতি, পরিবহণ এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পশ্চিমবঙ্গ খুব শীঘ্রই জাতীয় পরিসরে তার হারানো গুরুত্ব ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে।