...
...
Next Story

WB Flood Update: দক্ষিণবঙ্গে ফের বন্যার আশঙ্কা! মাইথন-পাঞ্চেত থেকে বাড়ছে জল, পাণ্ডবেশ্বরে ধস

ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইথন ড্যামের জলস্তর বর্তমানে ৪৮৪.২৫ ফুট। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখান থেকে গড়ে প্রায় ৬ হাজার ৪২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাঞ্চেত ড্যামের জলস্তর রয়েছে ৪১৪.১১ ফুট। সেখান থেকে গড়ে প্রায় ৪৪ হাজার ৩৭০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে।

Updated on: Sep 2, 2026, 13:59:17 IST
Advertisement

টানা দুর্যোগে বিপর্যস্ত দক্ষিণবঙ্গ। ঝাড়খণ্ডে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে একাধিক জেলায় চলছে লাগাতার বৃষ্টি। এর জেরে দ্রুত বাড়ছে ডিভিসির জলাধারগুলির জলস্তর। পরিস্থিতি সামলাতে মাইথন ও পাঞ্চেত ড্যাম থেকে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়ানো হচ্ছে। ফলে দামোদর অববাহিকার নিচু এলাকাগুলিতে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গে বন্যার আশঙ্কা (ছবিটি প্রতীকী)
দক্ষিণবঙ্গে বন্যার আশঙ্কা (ছবিটি প্রতীকী)

ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইথন ড্যামের জলস্তর বর্তমানে ৪৮৪.২৫ ফুট। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখান থেকে গড়ে প্রায় ৬ হাজার ৪২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাঞ্চেত ড্যামের জলস্তর রয়েছে ৪১৪.১১ ফুট। সেখান থেকে গড়ে প্রায় ৪৪ হাজার ৩৭০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে।

দুই জলাধার মিলিয়ে বর্তমানে মোট জল ছাড়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজার ৭৯৫ কিউসেক। তবে বৃষ্টি আরও বাড়লে এই পরিমাণও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও টানা বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে দামোদর নদে জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে ছাড়া জল ধাপে ধাপে পৌঁছচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারাজে। বুধবার সকাল পর্যন্ত দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বেড়ে হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ১১ হাজার ৪০০ কিউসেক।

সেচ দফতরের সূত্র অনুযায়ী, বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়লে দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকেও জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়তে পারে। আর সেক্ষেত্রে নিম্ন দামোদরের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যেই লাগাতার বৃষ্টিতে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। কোথাও রাস্তায় জল দাঁড়িয়েছে। কোথাও যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। জাতীয় সড়কেও তার প্রভাব পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই এলাকায় এর আগেও ধসের ঘটনা ঘটেছিল। তাঁদের দাবি, ২০১৮ সালেও একই জায়গায় ধস নেমেছিল। সেই সময় খনি কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে জায়গাটি মেরামত করেনি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে পুরনো ক্ষতস্থানেই ফের ধস নেমেছে বলে দাবি তাঁদের। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র কুমার যাদবও খনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। ভাগ্যের জোরে এলাকার মানুষ রক্ষা পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ধসের জায়গা দ্রুত মেরামত করতে হবে। বাড়াতে হবে নজরদারি। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টি ও ড্যাম থেকে জল ছাড়ার পরিস্থিতির উপরও কড়া নজর রাখতে হবে। একদিকে নদীতে বাড়ছে জল। অন্যদিকে খনি এলাকায় ধস। সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগের ছবি ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে। এখন বৃষ্টি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার দিকেই তাকিয়ে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe