টানা দুর্যোগে বিপর্যস্ত দক্ষিণবঙ্গ। ঝাড়খণ্ডে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে একাধিক জেলায় চলছে লাগাতার বৃষ্টি। এর জেরে দ্রুত বাড়ছে ডিভিসির জলাধারগুলির জলস্তর। পরিস্থিতি সামলাতে মাইথন ও পাঞ্চেত ড্যাম থেকে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়ানো হচ্ছে। ফলে দামোদর অববাহিকার নিচু এলাকাগুলিতে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইথন ড্যামের জলস্তর বর্তমানে ৪৮৪.২৫ ফুট। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখান থেকে গড়ে প্রায় ৬ হাজার ৪২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাঞ্চেত ড্যামের জলস্তর রয়েছে ৪১৪.১১ ফুট। সেখান থেকে গড়ে প্রায় ৪৪ হাজার ৩৭০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে।
দুই জলাধার মিলিয়ে বর্তমানে মোট জল ছাড়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজার ৭৯৫ কিউসেক। তবে বৃষ্টি আরও বাড়লে এই পরিমাণও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও টানা বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে দামোদর নদে জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে ছাড়া জল ধাপে ধাপে পৌঁছচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারাজে। বুধবার সকাল পর্যন্ত দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বেড়ে হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ১১ হাজার ৪০০ কিউসেক।
সেচ দফতরের সূত্র অনুযায়ী, বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়লে দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকেও জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়তে পারে। আর সেক্ষেত্রে নিম্ন দামোদরের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যেই লাগাতার বৃষ্টিতে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। কোথাও রাস্তায় জল দাঁড়িয়েছে। কোথাও যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। জাতীয় সড়কেও তার প্রভাব পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
এর মধ্যেই পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে আরও বড় আতঙ্কের খবর সামনে এসেছে। খনি এলাকায় ফের ধস নেমেছে। হরিপুরের ৭ এবং ৯ নম্বর পিট এলাকার কাছে মাটি বসে গিয়ে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ধসের জায়গাটি খনি আবাসনের কাছাকাছি হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। আচমকা মাটি বসে যাওয়ার ঘটনায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অনুমান, গত কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টির কারণেই এই ধস নেমেছে।
{{/usCountry}}এর মধ্যেই পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে আরও বড় আতঙ্কের খবর সামনে এসেছে। খনি এলাকায় ফের ধস নেমেছে। হরিপুরের ৭ এবং ৯ নম্বর পিট এলাকার কাছে মাটি বসে গিয়ে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ধসের জায়গাটি খনি আবাসনের কাছাকাছি হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। আচমকা মাটি বসে যাওয়ার ঘটনায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অনুমান, গত কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টির কারণেই এই ধস নেমেছে।
{{/usCountry}}বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই এলাকায় এর আগেও ধসের ঘটনা ঘটেছিল। তাঁদের দাবি, ২০১৮ সালেও একই জায়গায় ধস নেমেছিল। সেই সময় খনি কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে জায়গাটি মেরামত করেনি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে পুরনো ক্ষতস্থানেই ফের ধস নেমেছে বলে দাবি তাঁদের। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।
বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র কুমার যাদবও খনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। ভাগ্যের জোরে এলাকার মানুষ রক্ষা পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ধসের জায়গা দ্রুত মেরামত করতে হবে। বাড়াতে হবে নজরদারি। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টি ও ড্যাম থেকে জল ছাড়ার পরিস্থিতির উপরও কড়া নজর রাখতে হবে। একদিকে নদীতে বাড়ছে জল। অন্যদিকে খনি এলাকায় ধস। সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগের ছবি ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে। এখন বৃষ্টি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার দিকেই তাকিয়ে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।