ভোটের বাংলায় ঢেলে ‘ভেট’ দিলেন না কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চাকচিক্যে ভরা একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করা না হলেও বাজেটের একাধিক প্রকল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকল বাংলা। যা গত দু'বারের বাজেটের থেকে বড় পার্থক্য গড়ে দিল। আগেপ দু'বার যখন সংসদে সাধারণ বাজেট পেশ করছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী, তখন কার্যত মনে হচ্ছিল যে বিহারের বাজেট ভাষণ দিচ্ছেন। একাধিক হাইপ্রোফাইল ও শিরোনাম হয়ে ওঠার মতো প্রকল্প দিয়েছিলেন বিহারকে। ২০২৪ সালের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে ৫৮,৯০০ কোটি টাকার প্রকল্প পেয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্য। তবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেই পথে হাঁটেননি সীতারামন। পরিমিত ঘোষণা করেছেন এবারের বাজেটে।
কোন ৩টি বড় প্রকল্প পেল পশ্চিমবঙ্গ?

বিধানসভা নির্বাচনের মাসকয়েক আগে আজ যে বাজেট পেশ করলেন সীতারামন, তাতে পশ্চিমবঙ্গেরই জন্য বড় ঘোষণা বলতে ছিল তিনটি। প্রথমত, শিলিগুড়ি-বারাণসী হাইস্পিড রেল করিডর। দ্বিতীয়ত, ডানকুনি-সুরাট ফ্রেট করিডর। তৃতীয়ত, ইন্টিগ্রেটেড ইস্ট-কোস্ট করিডরের অংশ হিসেবে দুর্গাপুরে শিল্প করিডর।
কোন কোন ঘোষণার সঙ্গে জুড়ে থাকল বাংলা?
১) বায়োফার্মা শক্তি প্রকল্পের অধীনে দেশে সাতটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফার্মাসিউটিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (NIPER) আধুনিকীকরণের ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। আর সেই প্রতিষ্ঠানের একটি শাখায় কলকাতায় অবস্থিত।
২) বস্ত্রশিল্পের জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা করা হয়েছে। পাট, খাদি, হ্যান্ডলুম, হস্তশিল্পের মতো বিষয়ে জোর দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। ঘোষণা করেছেন মেগা টেক্সটাইল পার্কের। যে কাজের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের অনেকেই সরাসরি যুক্ত আছেন।
৩) কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের ২০০টি ঐতিহ্যবাহী শিল্প ক্লাস্টার পুনরুজ্জীবিত করা হবে। সেক্ষেত্রে কোনও রাজ্যের নাম করা না হলেও সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই পরিকল্পনার ফলে পশ্চিমবঙ্গও লাভবান হতে পারে।
৪) ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের উপরে জোর দেওয়া হয়েছে বাজেটে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন তহবিলের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১০,০০০ কোটি টাকা। তাছাড়াও সস্তায় জিনিসপত্র তৈরির উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। তার ফলে পশ্চিমবঙ্গও লাভবান হতে পারে। কারণ পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে।
{{/usCountry}}৪) ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের উপরে জোর দেওয়া হয়েছে বাজেটে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন তহবিলের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১০,০০০ কোটি টাকা। তাছাড়াও সস্তায় জিনিসপত্র তৈরির উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। তার ফলে পশ্চিমবঙ্গও লাভবান হতে পারে। কারণ পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে।
{{/usCountry}}৫) প্রতিটি জেলায় মেয়েদের জন্য একটি হস্টেল তৈরি করা হবে। সেখানে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে STEM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষায়।
৬) মৎস্যচাষ এবং পশুপালনের জন্য একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে। সীতারামনের দাবি, ৫০০টি রিজার্ভার এবং অমৃত সরোবর তৈরি করা হবে। লাভবান হবেন উপকূলবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীরা। আবার যাঁরা পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের সস্তায় ঋণ নেওয়ার দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে।
৭) পূর্ব ভারতের পাঁচটি রাজ্যে পাঁচটি পর্যটন কেন্দ্র তৈরির ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সেই রেশ ধরে ৪,০০০টি ইলেকট্রিক বাসের প্রস্তাব দিয়েছেন।