...
...
Next Story

WB Gobar Gas Biogas Project: গোবরেই জ্বালানির সমাধান! ‘জিরো ওয়েস্ট’ গ্রাম গড়তে এবার বড় উদ্যোগ রাজ্যের

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের ১৪টি জেলা পরিষদের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা অংশ নেন। কর্মশালায় নেতৃত্ব দেন সিএমইআরআইয়ের অধিকর্তা নরেশচন্দ্র মুর্মু এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি আবিদা সুলতানা।

Published on: Sep 14, 2026, 09:56:32 IST
Advertisement

জ্বালানির খরচ কমানো এবং গ্রামের বর্জ্য সমস্যা মোকাবিলায় গোবর ও রান্নাঘরের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস তৈরির উপর জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং গ্রামগুলিকে ‘জিরো ওয়েস্ট’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুর্গাপুরের সিএমইআরআইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তর।

জ্বালানির খরচ কমানো এবং গ্রামের বর্জ্য সমস্যা মোকাবিলায় গোবর ও রান্নাঘরের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস তৈরির উপর জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
জ্বালানির খরচ কমানো এবং গ্রামের বর্জ্য সমস্যা মোকাবিলায় গোবর ও রান্নাঘরের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস তৈরির উপর জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের ১৪টি জেলা পরিষদের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা অংশ নেন। কর্মশালায় নেতৃত্ব দেন সিএমইআরআইয়ের অধিকর্তা নরেশচন্দ্র মুর্মু এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি আবিদা সুলতানা। গ্রামাঞ্চলে কেন্দ্রের ‘গোবর্ধন’ প্রকল্পকে আরও কার্যকর করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সিএমইআরআইয়ের অধিকর্তা নরেশচন্দ্র মুর্মু জানান, এলপিজির দাম বাড়ার সময়ে বিকল্প হিসেবে ঘরোয়া বায়োগ্যাস ব্যবহারে জোর দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, শুধু প্রযুক্তি পৌঁছে দিলেই হবে না, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উপকারিতা নিয়েও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে প্রতিটি জেলা পরিষদকে বায়োগ্যাস ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিএমইআরআইয়ের প্রযুক্তিতে গবাদি পশুর গোবরকে প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে বায়োগ্যাস তৈরি করা হয়। পাশাপাশি রান্নাঘরের বর্জ্য এবং অন্যান্য জৈব বর্জ্যও এই ব্যবস্থায় কাজে লাগানো সম্ভব। এর ফলে একদিকে বর্জ্যের পরিমাণ কমে, অন্যদিকে সেই বর্জ্য থেকেই রান্না ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো কাজে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি তৈরি হয়।

সিএমইআরআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কেজি বর্জ্য যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পৃথক করা যায়। সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ ঘনমিটার বায়োগ্যাস উৎপন্ন হয়। এই গ্যাস রান্নার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ব্যবহার করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, বর্জ্য থেকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারযোগ্য ব্রিকেট তৈরির ব্যবস্থাও রয়েছে।

সিএমইআরআইয়ের আধিকারিকদের দাবি, ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের ২১টি জেলায় বায়োগ্যাস ইউনিট বসানো হয়েছে। শুধু গ্রামাঞ্চলেই নয়, হোটেল, বাজার, আবাসন এবং হাউসিং সোসাইটির মতো জায়গাতেও এই প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে যেখানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জৈব বর্জ্য তৈরি হয়, সেখানে তা সরাসরি জ্বালানি তৈরির কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।

পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি আবিদা সুলতানার মতে, স্বচ্ছ ভারত মিশনের গোবর্ধন প্রকল্পের মাধ্যমে গোবর ও রান্নাঘরের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস এবং জৈব সার তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে একসঙ্গে তিনটি লাভ—শক্তি উৎপাদন, গ্রামের পরিচ্ছন্নতা এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি।

জানা গিয়েছে, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগগুলির জন্য তুলনামূলক কম খরচে এই প্রযুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে সিএমইআরআইয়ের। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের আর্থিক সহায়তায় বায়োগ্যাসে মিথেনের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেও একটি প্রকল্প চলছে। ইতিমধ্যেই বায়োগ্যাস তৈরির জন্য অ্যানারোবিক ডাইজেস্টার প্রযুক্তি তৈরি করেছে সংস্থাটি।

সব মিলিয়ে গোবর ও জৈব বর্জ্যকে বোঝা হিসেবে না দেখে সম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যেই এগোতে চাইছে রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তর। সফলভাবে এই প্রযুক্তি গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে জ্বালানির বিকল্প উৎস তৈরির পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks