...
...
Next Story

WB Governor RN Ravi: ‘বিকৃত আদর্শ ও ভুল রাজনীতি বাংলাকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে’, তৃণমূল-বামকে নিশানা রাজ্যপালের?

রাজ্যপাল বলেন, বিকৃত আদর্শ এবং ভুল রাজনৈতিক চর্চার ফলেই বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, এক সময় শিক্ষা, সংস্কৃতি, বৌদ্ধিক চর্চা এবং জাতীয় জীবনে নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে বাংলা দেশের অন্যতম অগ্রণী রাজ্য ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অবস্থানের অবনতি ঘটেছে।

Published on: Jun 4, 2026, 09:08:33 IST
Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি নাম না করেই রাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি সিপিএম এবং তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতিকে পরোক্ষভাবে নিশানা করেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, আদর্শগত অবস্থান এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে একাধিক সমালোচনা।

রাজ্যপাল বলেন, বিকৃত আদর্শ এবং ভুল রাজনৈতিক চর্চার ফলেই বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। (PWD IT Dept)
রাজ্যপাল বলেন, বিকৃত আদর্শ এবং ভুল রাজনৈতিক চর্চার ফলেই বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। (PWD IT Dept)

রাজ্যপাল বলেন, বিকৃত আদর্শ এবং ভুল রাজনৈতিক চর্চার ফলেই বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, এক সময় শিক্ষা, সংস্কৃতি, বৌদ্ধিক চর্চা এবং জাতীয় জীবনে নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে বাংলা দেশের অন্যতম অগ্রণী রাজ্য ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অবস্থানের অবনতি ঘটেছে। এর জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেই দায়ী করেন তিনি। তাঁর কথায়, 'স্বাধীনতার প্রাক্কালে বাংলা ছিল সমগ্র দেশের আলোকবর্তিকা। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল এই বাংলা। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলা ছিল অগ্রপথিক। ষাটের দশকে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দেখে ঈর্ষাবোধ করতাম। সেই গৌরবোজ্জ্বল দিনগুলোতে দেশের মোট জিডিপি-র প্রায় ১১ শতাংশই আসত কেবল এই বাংলা থেকে। কিন্তু এরপরই শুরু হল আমাদের অধঃপতন। সেই পতন শুরু হওয়ার ফলে একসময় আমরা পরিণত হলাম এক চরম দুর্দশাগ্রস্ত ও পরনির্ভরশীল রাজ্যে। এক বিকৃত আদর্শ ও ভ্রান্ত রাজনীতিই এই রাজ্যের সর্বনাশ ডেকে এনেছিল।'

রাজ্যপাল আরও মন্তব্য করেন, নির্বাচনে জয়ী হলে গণতন্ত্রকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, কিন্তু পরাজিত হলে ভোট লুট বা কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়। তাঁর মতে, এই ধরনের বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর আঘাত হানে। তিনি বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হলেও অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। রাজ্যের উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ইতিবাচক রাজনীতি করতে হবে। বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য এবং উন্নয়নমুখী চিন্তাভাবনাই বাংলাকে আবার তার পুরনো মর্যাদায় ফিরিয়ে আনতে পারে।

রাজ্যপালের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের নাম সরাসরি উচ্চারণ করেননি, তাঁর বক্তব্যের লক্ষ্য কারা ছিল তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সিপিএমের দীর্ঘ বাম শাসন এবং পরবর্তী তৃণমূল সরকারের আমলের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর মন্তব্যকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe