দফায় দফায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টিতে জলমগ্ন রাস্তাঘাট। কোথাও হাঁটুসমান জল, কোথাও আবার জলজটে কার্যত থমকে গিয়েছে যান চলাচল। নিম্নচাপের প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মোট ১২৩.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গতরাতে অবিরাম বৃষ্টি হয়েছে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বহু জায়গায়। তবে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, নিম্নচাপটি দক্ষিণবঙ্গ থেকে সরে যাওয়ায় আগামী দিনে এই অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমবে। উল্টোদিকে উত্তরবঙ্গে বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। দিনের বিভিন্ন সময়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রির আশেপাশে থাকতে পারে। অর্থাৎ বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা স্বাভাবিকের নিচে থাকলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, সংলগ্ন উত্তর উপকূলীয় ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ইতিমধ্যে পশ্চিম-উত্তর দিকে সরে উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে আরও দুর্বল হয়ে সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এটি দক্ষিণ উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তর মধ্যপ্রদেশের দিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিম্নচাপের অবস্থান পরিবর্তনের জেরে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি চলতে পারে। ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর মধ্যে জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ওই সময় দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি থাকবে।
{{/usCountry}}বৃষ্টির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ওই সময় দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি থাকবে।
{{/usCountry}}দক্ষিণবঙ্গেও অবশ্য এখনই পুরোপুরি স্বস্তি মিলছে না। ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৪ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে। ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দুই বর্ধমানে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং পশ্চিম বর্ধমানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
কলকাতাতেও বৃষ্টির প্রভাব স্পষ্ট। বুধবার শহর ও সংলগ্ন এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৯ ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.২ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৪ ডিগ্রি বেশি। বাতাসে সর্বোচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৮৮ শতাংশ।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণবঙ্গে নিম্নচাপের প্রভাব ধীরে ধীরে কমলেও উত্তরবঙ্গে আগামী কয়েক দিন বাড়তে পারে দুর্যোগের আশঙ্কা। ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পাহাড় ও ডুয়ার্সের জেলাগুলিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন রয়েছে।