দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গের জন্য সুখবর শোনাল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুর্বল থাকায় রাজ্য-সহ দেশের একাধিক অংশে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে এবার বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, বৃহস্পতিবার থেকে এই নিম্নচাপের প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করবে এবং আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি আশানুরূপ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বর্ষা দুর্বল থাকায় দেশের অন্তত ১২টি রাজ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। প্রায় ৩১৫টি জেলায় গড়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃষ্টির ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে সক্রিয় এল নিনো পরিস্থিতিই এর অন্যতম প্রধান কারণ। এর প্রভাবেই মৌসুমি বায়ুর শক্তি কমেছে এবং বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন আশার খবর দিয়েছে আইএমডি। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই নিম্নচাপ তৈরি হলে পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশায় বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু এলাকাতেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে এই নিম্নচাপের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে বলে জানানো হয়েছে। কলকাতা-সহ হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং সংলগ্ন জেলাগুলিতে বৃহস্পতিবার থেকেই বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে। আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত প্রায় টানা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতার আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, ১৬ ও ১৭ জুলাই বৃষ্টির তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকবে। এই দুই দিনে শহরের কয়েকটি এলাকায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে শহরের নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
{{/usCountry}}কলকাতার আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, ১৬ ও ১৭ জুলাই বৃষ্টির তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকবে। এই দুই দিনে শহরের কয়েকটি এলাকায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে শহরের নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, এই বৃষ্টিতে কৃষিক্ষেত্র কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় চাষাবাদে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। ধান-সহ খরিফ ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় জল না মেলায় কৃষকরা উদ্বেগে ছিলেন। নিম্নচাপের প্রভাবে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে সেই পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপের গতিপথ ও শক্তির উপর নির্ভর করবে বৃষ্টির প্রকৃত পরিমাণ। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে নিয়মিত পূর্বাভাস প্রকাশ করা হবে। তাই আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেটের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে জল জমা, যানজট এবং স্থানীয়ভাবে দুর্ভোগের সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই একদিকে যেমন কৃষিক্ষেত্রে এই বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থেকেও চলতে হবে।