পশ্চিমবঙ্গের হোটেল এবং রেস্তরাঁ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের অধিকাংশ হোটেল ও রেস্তরাঁই নিয়ম মেনে চলছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান যে জমিতে তৈরি, সেই জমিই সরকারি। অথচ প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেই। এমনই দাবি মন্ত্রীর।

দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, শুধু লাইসেন্সের সমস্যাই নয়। রেস্তরাঁয় কী ধরনের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে, তা নিয়েও নিয়মিত অভিযোগ আসে। প্রশাসন এবার বিষয়টি কঠোরভাবে দেখবে। ইতিমধ্যেই পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। ধীরে ধীরে সবকিছু ঠিক করা হবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
দিলীপের এই মন্তব্যের মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় খাবারের মান নিয়ে অভিযান চলছে। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া এবং মধ্যমগ্রামে সম্প্রতি বড়সড় অনিয়ম ধরা পড়েছে। বাদুড়িয়ার একটি রেস্তরাঁয় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০ কিলোগ্রাম পচা মুরগি এবং ছাগলের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে বলে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশ, পুরসভা এবং খাদ্য দফতরের যৌথ অভিযানে এই মাংস উদ্ধার হয়।
রেস্তরাঁর কর্মীদের দাবি ছিল, ওই মাংস ফেলে দেওয়ার জন্য আলাদা করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি খাদ্য দফতর। মাংস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষকে নোটিসও দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক উত্তর না মিললে রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
শুধু বাদুড়িয়া নয়। মধ্যমগ্রামের একটি বড় শপিং মলের ফুড কোর্টেও অভিযান চালানো হয়। সেখানেও পচা ও ছত্রাক ধরা মাংস পাওয়া যায়। কিছু খাবার ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ। পানীয়ের বোতল নিয়েও অনিয়ম ধরা পড়ে। কয়েকটি রেস্তরাঁর লাইসেন্স ঘটনাস্থলেই বাতিল করা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। খাদ্য দফতরের আধিকারিকদের দাবি, কিছু জায়গায় কয়েক দিন ধরে কাঁচা মাংস ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। খাবার সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি আরও উদ্বেগের কারণ, কারণ ওই শপিং মলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।
{{/usCountry}}শুধু বাদুড়িয়া নয়। মধ্যমগ্রামের একটি বড় শপিং মলের ফুড কোর্টেও অভিযান চালানো হয়। সেখানেও পচা ও ছত্রাক ধরা মাংস পাওয়া যায়। কিছু খাবার ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ। পানীয়ের বোতল নিয়েও অনিয়ম ধরা পড়ে। কয়েকটি রেস্তরাঁর লাইসেন্স ঘটনাস্থলেই বাতিল করা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। খাদ্য দফতরের আধিকারিকদের দাবি, কিছু জায়গায় কয়েক দিন ধরে কাঁচা মাংস ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। খাবার সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি আরও উদ্বেগের কারণ, কারণ ওই শপিং মলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।
{{/usCountry}}এই ঘটনাগুলির পর ফের সামনে এসেছে বহু বছর আগের ভাগাড়-কাণ্ডের স্মৃতি। ২০১৮ সালে বাদুড়িয়াকে কেন্দ্র করে পচা ও মৃত পশুর মাংসের বেআইনি কারবারের অভিযোগে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। এবার ফের একই এলাকায় পচা মাংস উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই আবহে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে রাজ্যের হোটেল-রেস্তরাঁ ব্যবসায় বড়সড় পরিসরে নজরদারি প্রয়োজন। শুধু খাবারের মান নয়। দেখতে হবে লাইসেন্স, জমির বৈধতা এবং অগ্নি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়মও। দিলীপের কথায়, পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে। এবার সেই অভিযান কতটা বিস্তৃত হয়, সেটাই দেখার। সাধারণ মানুষের প্রশ্নও একটাই—রেস্তরাঁয় খাবার খেতে গিয়ে তারা আদৌ কতটা নিরাপদ?