অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় রাজ্যের ১ কোটি ১০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা পৌঁছে গিয়েছে। সরকারি এই আর্থিক সহায়তা পেয়ে বহু পরিবারে খুশির আবহ তৈরি হলেও, এখনও টাকা না পাওয়া আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকের আবেদনের স্টেটাসে ‘আন্ডার এনকোয়ারি’ দেখাচ্ছে, আবার কারও ক্ষেত্রে ‘অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্টেড’ দেখানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের আশ্বস্ত করলেন মেখলিগঞ্জের বিধায়ক এবং স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতি রাভা রায়। তিনি জানিয়েছেন, যাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে, সেগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে এবং যোগ্য কেউ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।

রবিবার মন্ত্রী মালতি রাভা রায় বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ জানতে প্রশাসনের আধিকারিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা আবেদনকারীদের তথ্য পরীক্ষা করে দেখবেন কেন আবেদন বাতিল হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না, তা নির্ধারণ করবেন। যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, 'এটি অত্যন্ত বড় একটি সামাজিক প্রকল্প। খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে যাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে, তাঁদের বিষয়েও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। এসডিও এবং বিডিওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি বাতিল আবেদনের কারণ খতিয়ে দেখতে। কোনও যোগ্য আবেদনকারী যাতে বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।'
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা এখনও না পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় আবেদনকারীদের মধ্যে অসন্তোষও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরও তাঁদের আবেদন এখনও অনুমোদিত হয়নি। কেউ কেউ আবার দাবি করছেন, যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গিয়েছে, অথচ প্রকৃত প্রাপকদের একাংশ এখনও বঞ্চিত রয়েছেন। এই অভিযোগগুলিও প্রশাসনের নজরে এসেছে।
এদিকে, গত ৪ জুলাই মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে হবে। যে সমস্ত আবেদন বাতিল করা হয়েছে, সেগুলি পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি অফলাইনে জমা পড়া আবেদনগুলিও ডিজিটাল ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার কাজ একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}এদিকে, গত ৪ জুলাই মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে হবে। যে সমস্ত আবেদন বাতিল করা হয়েছে, সেগুলি পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি অফলাইনে জমা পড়া আবেদনগুলিও ডিজিটাল ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার কাজ একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনায় মোট ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ ৩৮ হাজার আবেদন বাতিল করা হয়েছে। ফলে বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী এখনও তাঁদের আবেদনের চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও আবেদনকারীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, যাঁরা সিএএ-র জন্য আবেদন করেছেন বা যাঁদের নাম ট্রাইব্যুনালে রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও আপাতত অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা বন্ধ করা হবে না। সরকারের দাবি, সমস্ত আবেদন নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে যোগ্য উপভোক্তাদের হাতে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। ফলে যাঁদের আবেদন এখনও ঝুলে রয়েছে বা বাতিল হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকছে বলে প্রশাসনিক মহলের আশা।