আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে মূলত মেঘলা আকাশের সঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুত্-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বর্ষণের জেরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কলকাতার ক্ষেত্রে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আকাশ সাধারণভাবে মেঘলা থাকবে। শহরের বিভিন্ন অংশে হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রির আশেপাশে থাকতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও বেশ বেশি থাকবে, ফলে বৃষ্টির মাঝেও ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি বজায় থাকবে। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরে নামমাত্র বৃষ্টিপাত হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং কলকাতায় প্রথম দু'দিন কয়েকটি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তৃতীয় দিন থেকে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে। সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে অধিকাংশ জেলাতেই অনেক জায়গায় বৃষ্টি হবে এবং সপ্তাহের শেষভাগে প্রায় সর্বত্র হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও বেশি বৃষ্টিমুখর থাকবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে আগামী দু'দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কোথাও কোথাও ২০ সেন্টিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুতের আশঙ্কাও রয়েছে। এরপরও টানা কয়েকদিন ভারী বৃষ্টি চলতে পারে।
{{/usCountry}}উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও বেশি বৃষ্টিমুখর থাকবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে আগামী দু'দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কোথাও কোথাও ২০ সেন্টিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুতের আশঙ্কাও রয়েছে। এরপরও টানা কয়েকদিন ভারী বৃষ্টি চলতে পারে।
{{/usCountry}}উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহ জেলাতেও আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই জেলাগুলিতে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা তুলনামূলক কম, তবু স্থানীয়ভাবে জল জমা এবং স্বাভাবিক জনজীবনে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের পার্বত্য এলাকায় ভারী বৃষ্টির জেরে ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি নিচু এলাকা জলমগ্ন হতে পারে এবং প্রবল বৃষ্টির সময় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সড়ক পরিবহণে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে না থাকা, গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং জলাশয় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষিজ ফসল ও উদ্যানপালনেও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, আগামী সপ্তাহজুড়েই পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার সক্রিয় প্রভাব বজায় থাকবে। দক্ষিণবঙ্গে ধাপে ধাপে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লেও উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়ানো এবং আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।