এল নিনোর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ বছর বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা দিলেও বাংলার ছবি সম্পূর্ণ আলাদা। বর্ষা এখনও বিদায় নেওয়ার সময় আসেনি। তার আগেই গোটা মরশুমে স্বাভাবিক হিসাবে ধরা বৃষ্টির পরিমাণ ছাপিয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলায় বর্ষাকালে সাধারণত ১,০৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে স্বাভাবিক ধরা হয়। সেখানে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ১,১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

দেশের অন্য কয়েকটি রাজ্যের পরিস্থিতি অবশ্য একেবারেই বিপরীত। বিহার-সহ দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে এ বছর বৃষ্টিপাতের ঘাটতি রয়েছে। সেই জায়গায় পশ্চিমবঙ্গে পরপর নিম্নচাপ, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং একের পর এক বৃষ্টির জেরে মৌসুমের মোট বৃষ্টিপাত ইতিমধ্যেই স্বাভাবিকের উপরে উঠে গিয়েছে।
এবার বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। আবহাওয়া দফতরের হিসাবে, দক্ষিণবঙ্গে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় ৯১৮ মিলিমিটার। সেখানে এখনও পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রায় ১,০১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ফলে দক্ষিণবঙ্গে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
কলকাতাতেও একই ছবি। শহরে সাধারণত ১,০৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে স্বাভাবিক ধরা হয়। কিন্তু চলতি বর্ষায় এখনও পর্যন্ত কলকাতায় ১,২৮১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। একাধিক দফায় ভারী বৃষ্টি ও নিম্নচাপের প্রভাবেই এই অতিরিক্ত বর্ষণ বলে মনে করছেন আবহবিদরা।
উল্টো চিত্র উত্তরবঙ্গে। সেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় ১,৫১৮ মিলিমিটার। কিন্তু এখনও পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি হয়েছে ১,৩৮৮ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কম। ফলে রাজ্যের দুই প্রান্তে বৃষ্টির পরিমাণে স্পষ্ট ফারাক তৈরি হয়েছে।
{{/usCountry}}উল্টো চিত্র উত্তরবঙ্গে। সেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় ১,৫১৮ মিলিমিটার। কিন্তু এখনও পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি হয়েছে ১,৩৮৮ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কম। ফলে রাজ্যের দুই প্রান্তে বৃষ্টির পরিমাণে স্পষ্ট ফারাক তৈরি হয়েছে।
{{/usCountry}}আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক অধিকর্তা হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক বৃষ্টিপাতের হিসাবে ঘাটতি থাকতে পারে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই ঘাটতি নেই। বরং রাজ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে এই সময় বর্ষা বিদায় নিতে শুরু করলেও পূর্ব ভারতে বর্ষা সাধারণত আরও কিছুটা সময় থেকে যায়। বাংলায় বর্ষার বিদায় অক্টোবর মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে। অর্থাৎ এখনও প্রায় এক মাস বর্ষার প্রভাব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে অতিবৃষ্টির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই দুর্যোগের ছবি সামনে এসেছে। পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মালদার ইংরেজবাজার ব্লকেও গঙ্গার জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত বৃষ্টি একদিকে কৃষি ও জলসম্পদের জন্য সহায়ক হলেও, অন্যদিকে নিচু এলাকা ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
এর মধ্যেই বাংলার উপর দিয়ে নিম্নচাপ সরে মধ্যপ্রদেশের দিকে গেলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাটছে না। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি সক্রিয় রয়েছে মৌসুমি বায়ুও। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, কলকাতাতেও রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনা। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, এল নিনোর প্রভাবে যেখানে দেশের বহু অংশে বৃষ্টির ঘাটতি, সেখানে বাংলায় উল্টো অতিবৃষ্টির পরিস্থিতি। বর্ষা বিদায়ের এখনও দেরি থাকায় আগামী কয়েক সপ্তাহে এই পরিসংখ্যান আরও বদলাতে পারে বলেই মনে করছেন আবহবিদরা।