WB Petrol & Diesel Price Update: পশ্চিমবঙ্গে শুক্রবার পেট্রোল ও ডিজেলের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। রাজ্যের সব জেলাতেই আগের দিনের দামই বহাল রয়েছে। তবে জেলাভেদে জ্বালানির দামে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। কোথাও পেট্রোলের দাম লিটারপিছু ১১৪ টাকার অনেক উপরে, আবার কোথাও তা ১১৩ টাকার সামান্য বেশি। একই ছবি ডিজেলের ক্ষেত্রেও। কোনও জেলায় ডিজেলের দাম ১০১ টাকার বেশি, আবার কোথাও তা ৯৯ টাকার ঘরে রয়েছে। ফলে এক জেলার সঙ্গে অন্য জেলার জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান বজায় রয়েছে।

রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় শুক্রবার পেট্রোলের দাম লিটারপিছু ১১৩ টাকা ৫১ পয়সা। একই সঙ্গে ডিজেলের দাম রয়েছে ৯৯ টাকা ৮২ পয়সা প্রতি লিটার। মহানগরীর তুলনায় রাজ্যের একাধিক জেলায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কিছুটা বেশি রয়েছে।
পেট্রোলের দামের নিরিখে মুর্শিদাবাদ রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে উপরের সারিতে রয়েছে। সেখানে এক লিটার পেট্রোলের দাম ১১৪ টাকা ৭৯ পয়সা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঝাড়গ্রাম, যেখানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১১৪ টাকা ৫২ পয়সা। এরপর রয়েছে নদিয়া, যেখানে পেট্রোলের দাম ১১৪ টাকা ৪৬ পয়সা। আলিপুরদুয়ারে লিটারপিছু পেট্রোলের দাম ১১৪ টাকা ২৮ পয়সা এবং বীরভূমে ১১৪ টাকা ২১ পয়সা।
হুগলি ও পুরুলিয়ায় পেট্রোলের দাম সমান, প্রতি লিটার ১১৪ টাকা। বাঁকুড়ায় পেট্রোলের দাম ১১৩ টাকা ৯১ পয়সা এবং পূর্ব বর্ধমানে ১১৩ টাকা ৮৫ পয়সা। মালদহে এক লিটার পেট্রোলের জন্য খরচ করতে হবে ১১৩ টাকা ৮১ পয়সা। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দাম রয়েছে ১১৩ টাকা ৭৬ পয়সা। উত্তর দিনাজপুরে পেট্রোলের দাম ১১৩ টাকা ৫৯ পয়সা।
এদিকে পশ্চিম বর্ধমানে পেট্রোলের দাম ১১৩ টাকা ৫৩ পয়সা, হাওড়ায় ১১৩ টাকা ৬৩ পয়সা এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ১১৩ টাকা ৪৭ পয়সা। জলপাইগুড়িতে লিটারপিছু পেট্রোলের দাম ১১৩ টাকা ৪৬ পয়সা এবং কালিম্পঙে ১১৩ টাকা ৪২ পয়সা। দার্জিলিংয়ে পেট্রোলের দাম তুলনামূলকভাবে কম, প্রতি লিটার ১১৩ টাকা ১৮ পয়সা। রাজ্যের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন দামের অন্যতম।
{{/usCountry}}এদিকে পশ্চিম বর্ধমানে পেট্রোলের দাম ১১৩ টাকা ৫৩ পয়সা, হাওড়ায় ১১৩ টাকা ৬৩ পয়সা এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ১১৩ টাকা ৪৭ পয়সা। জলপাইগুড়িতে লিটারপিছু পেট্রোলের দাম ১১৩ টাকা ৪৬ পয়সা এবং কালিম্পঙে ১১৩ টাকা ৪২ পয়সা। দার্জিলিংয়ে পেট্রোলের দাম তুলনামূলকভাবে কম, প্রতি লিটার ১১৩ টাকা ১৮ পয়সা। রাজ্যের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন দামের অন্যতম।
{{/usCountry}}ডিজেলের ক্ষেত্রেও জেলাভেদে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। নদিয়ায় ডিজেলের দাম সবচেয়ে বেশি। সেখানে এক লিটার ডিজেলের জন্য খরচ করতে হবে ১০১ টাকা ৭ পয়সা। আলিপুরদুয়ারে ডিজেলের দাম ১০১ টাকা ১৩ পয়সা। পুরুলিয়ায় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০১ টাকা ১ পয়সা।
ঝাড়গ্রামে ডিজেলের দাম ১০০ টাকা ৭৫ পয়সা, বীরভূমে ১০০ টাকা ৬৬ পয়সা এবং বাঁকুড়ায় ১০০ টাকা ৬৫ পয়সা। দার্জিলিংয়ে ডিজেলের দাম রয়েছে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা। মুর্শিদাবাদে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা ২৯ পয়সা এবং উত্তর দিনাজপুরে ১০০ টাকা ২২ পয়সা।
দক্ষিণ দিনাজপুরে ডিজেলের দাম ১০০ টাকা ১৪ পয়সা। হুগলিতে ১০০ টাকা ১০ পয়সা, উত্তর ২৪ পরগনায় ১০০ টাকা ৬ পয়সা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ঠিক ১০০ টাকা। পূর্ব বর্ধমানে ডিজেলের দাম ৯৯ টাকা ৯৬ পয়সা এবং পশ্চিম বর্ধমানে ৯৯ টাকা ৮৬ পয়সা। কলকাতা ও হাওড়া—উভয় জেলাতেই ডিজেলের দাম সমান, প্রতি লিটার ৯৯ টাকা ৮২ পয়সা। কালিম্পঙে ৯৯ টাকা ৭৭ পয়সা, জলপাইগুড়িতে ৯৯ টাকা ৬৮ পয়সা এবং মালদহে ৯৯ টাকা ৬৭ পয়সা। এই তিন জেলার মধ্যে মালদহে ডিজেলের দাম সবচেয়ে কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, ডলারের তুলনায় টাকার বিনিময় মূল্য, পরিবহণ খরচ, কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক এবং রাজ্যভিত্তিক মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট)-এর কারণে এক জেলা থেকে অন্য জেলার জ্বালানির দামে পার্থক্য দেখা যায়। একই রাজ্যের মধ্যেও স্থানীয় কর এবং পরিবহণ ব্যয়ের তারতম্যের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের দামে কিছুটা ওঠানামা হতে পারে।
যদিও শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের কোনও জেলাতেই পেট্রোল বা ডিজেলের দামে পরিবর্তন হয়নি, তবুও প্রতিদিন সকালে তেল সংস্থাগুলি নতুন মূল্য ঘোষণা করে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা কিংবা কর কাঠামোয় পরিবর্তন হলে ভবিষ্যতে জ্বালানির দামে প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমানে রাজ্যে পেট্রোলের দাম ১১৩ থেকে ১১৪ টাকার মধ্যে এবং ডিজেলের দাম প্রায় ৯৯ থেকে ১০১ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। মুর্শিদাবাদে পেট্রোলের দাম সবচেয়ে বেশি হলেও দার্জিলিংয়ে তা সবচেয়ে কম। অন্যদিকে ডিজেলের ক্ষেত্রে আলিপুরদুয়ার ও নদিয়ায় সর্বোচ্চ দাম দেখা গেলেও মালদহ, জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পঙে তুলনামূলকভাবে কম দামে মিলছে এই জ্বালানি।
জ্বালানির দাম সরাসরি পরিবহণ ব্যয়, কৃষি, শিল্প এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদরের উপর প্রভাব ফেলে। তাই প্রতিদিনের জ্বালানির মূল্য পরিবর্তনের দিকে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পরিবহণ ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের নজর থাকে। শুক্রবার দাম অপরিবর্তিত থাকায় আপাতত স্বস্তিতে রয়েছেন রাজ্যের গাড়িচালক এবং পরিবহণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।