রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের একদিন আগে ফের পুলিশ প্রশাসনে রদবদল করা হল। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় হিংসা এবং সঘর্ষের ঘটনা দেখা গিয়েছে। এই আবহে নির্বিঘ্নে ভোট সম্পন্ন করতে তৎপর হয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত ডিজি (আইনশৃঙ্খলা)-র তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, প্রথম দফার ভোটে কাজ করা ২৬ জন পুলিশ আধিকারিককে দ্বিতীয় দফার ভোটেও কাজে লাগানো হচ্ছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের লালবাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার দোরজি, ডালখোলার এসডিপিও রবিরাজ অবস্তী, ঘাটালের এসডিপিও গায়কোয়াড় নীলেশ শ্রীকান্ত এবং নকশালবাড়ির এসডিপিও সৌম্যজিৎ রায়কে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে। এরই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বলা হয়েছে, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় দায়িত্ব সামলাবেন এসএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট প্রবীণ প্রকাশ। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে এমজে মার্সি এবং খাণ্ডবাহালে উমেশ গণপতকে।
বারাসত পুলিশ জেলার দায়িত্বে অনিমেষ রায় এবং ধীরাজ ঠাকুর, বসিরহাট পুলিশ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অতিশ বিশ্বাসকে। রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামির আহমেদ, পুরুলিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জর্জ অ্যালেন জন এবং রাজ্যের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের সহকারী পুলিশ সুপার আকাশদীপ গেহলোটকে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটে পাঠানো হচ্ছে আইপিএস আধিকারিক প্রবীণ প্রকাশকে।
প্রসঙ্গত, ভোট ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক পুলিশ আধিকারিক, আইপিএসকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিনরাজ্য থেকে নিয়োগ করা হয়েছে পুলিশ পর্যবেক্ষক। বিহার, তেলাঙ্গানা, দিল্লি, পাঞ্জাব, গুজরাট থেকে বাংলায় এসেছেন বহু পুলিশ পর্যবেক্ষক। জেলা ভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। রাজ্যের ডিজিপি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে রদবদল করে কমিশন। পীযুষ পাণ্ডের জায়গায় নতুন ডিজি করা হয় সিদ্ধিনাথ গুপ্তকে। এবং সুপ্রতিম সরকারের বদলে কলকাতা পুলিশের নয়া কমিশনার হন অজয় নন্দ। এরপর কলকাতার ডিসি (সেন্ট্রাল) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে। এরই সঙ্গে রাজ্যের ১২ জায়গায় পুলিশ সুপারকেও পাল্টে দেয় নির্বাচন কমিশন। বীরভূম, ডায়মন্ড হারবার, পূর্ব মেদিনীপুর, কোচবিহার, মালদার পুলিশ সুপার পদেও রদবদল করা হয়েছিল। রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, জলপাইগুড়ি এবং প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি পদেও বদল করা হয়েছিল। বিধাননগর এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।