গণেশ চতুর্থীর দিনেও রাজ্যের আবহাওয়ায় নেই স্বস্তি। সোমবার সকাল থেকেই কোথাও মেঘলা আকাশ, কোথাও আবার বৃষ্টি—দিনভর এমনই থাকতে পারে পরিস্থিতি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। তাই উৎসবের দিনে বাইরে বেরোলে ছাতা সঙ্গে রাখার পরামর্শই থাকছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তর বিদর্ভ ও সংলগ্ন মধ্যপ্রদেশের উপর থাকা নিম্নচাপটি বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তর বিদর্ভের উপর অবস্থান করছে। নিম্নচাপের সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত। ঘূর্ণাবর্তটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে হেলে রয়েছে। আগামী দিনে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এরপর দক্ষিণ-পূর্ব রাজস্থান এবং উত্তর গুজরাটের উপর দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের উপর সক্রিয় রয়েছে মৌসুমি অক্ষরেখা। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই অক্ষরেখা জয়সালমের, কোটা, নিম্নচাপের কেন্দ্র, রাজনন্দগাঁও এবং ভবানীপটনা হয়ে পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগিয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত এর প্রভাব রয়েছে। এই দুই আবহাওয়াগত ব্যবস্থার প্রভাবেই রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় খবর হল, সোমবার সমস্ত জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গায় কখনও হালকা, আবার কখনও মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। মাঝে মেঘ সরে সাময়িকভাবে আকাশ পরিষ্কার হলেও ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ গণেশ পুজোর দিন আবহাওয়ার মেজাজ বেশ খামখেয়ালি থাকতে পারে।
তবে দক্ষিণবঙ্গের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। রবিবারের মতো সোমবার আলাদা করে কোনও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়নি। অর্থাৎ বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও আপাতত দক্ষিণবঙ্গের জন্য বড় ধরনের আবহাওয়া সতর্কতা নেই। পুজোর বিভিন্ন আয়োজন এবং প্রতিমা দর্শনে বেরোনোর ক্ষেত্রে সেই কারণে তুলনামূলক স্বস্তি থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রাখতে হবে।
{{/usCountry}}তবে দক্ষিণবঙ্গের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। রবিবারের মতো সোমবার আলাদা করে কোনও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়নি। অর্থাৎ বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও আপাতত দক্ষিণবঙ্গের জন্য বড় ধরনের আবহাওয়া সতর্কতা নেই। পুজোর বিভিন্ন আয়োজন এবং প্রতিমা দর্শনে বেরোনোর ক্ষেত্রে সেই কারণে তুলনামূলক স্বস্তি থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রাখতে হবে।
{{/usCountry}}উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি তুলনায় বেশি উদ্বেগের। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের উপরের দিকের জেলাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। সেখানে বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ফলে খোলা জায়গায় পুজোর আয়োজন, অস্থায়ী মণ্ডপ এবং বিদ্যুতের লাইনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উৎসবের দিনে রাজ্যের কোথাও বৃষ্টি, কোথাও মেঘলা আকাশ এবং কোথাও সাময়িক স্বস্তি—এই তিনের মিশ্র পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সতর্ক থাকা জরুরি।
গণেশ পুজোর দিনে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির কারণে মণ্ডপমুখী মানুষের যাতায়াতে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে। রাস্তায় জল জমলে যান চলাচলেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই যারা পুজোর সময়ে বাইরে বেরোচ্ছেন, তাঁদের আবহাওয়ার আপডেট দেখে বেরোনোই ভাল।
সব মিলিয়ে উৎসবের আবহে বৃষ্টির সম্ভাবনা রাজ্যবাসীর পরিকল্পনায় খানিকটা বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তবে দক্ষিণবঙ্গে বড় সতর্কতা না থাকায় পরিস্থিতি খুব উদ্বেগজনক নয়। উত্তরবঙ্গে হলুদ সতর্কতা এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কারণে সেখানে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। পুজোর আনন্দে বেরোলে তাই ছাতা সঙ্গে রাখাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।