পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা উপনির্বাচনের ব্যস্ততা শেষ হওয়ার আগেই এবার সামনে চলে এল রাজ্যসভার একটি শূন্য আসনের ভোট। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগের কারণে খালি হওয়া আসনে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর ওই আসনে ভোট হওয়ার কথা। অর্থাৎ, দুর্গাপুজোর আবহেই রাজ্যসভার এই নির্বাচন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হবে।

কোয়েল মল্লিক চলতি বছরের জুলাই মাসে রাজ্যসভার সদস্যপদ ছেড়ে দেন। ১৬ জুলাই দিল্লিতে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণণের সঙ্গে দেখা করে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। মাত্র কয়েক মাস আগে তৃণমূলের মনোনয়নে উচ্চকক্ষে গিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। তাঁর পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় দলের আরও একটি আসন শূন্য হয়ে যায়।
কোয়েলের আগে তৃণমূলের আরও তিন রাজ্যসভা সদস্য—সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক—নিজেদের পদ ছেড়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ওই তিন প্রাক্তন সাংসদ বিজেপির প্রার্থী হিসেবে আবার রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন। ফলে কোয়েল মল্লিকও কি একই পথে হাঁটবেন, তা নিয়ে তাঁর ইস্তফার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়।
কোয়েলের রাজ্যসভা যাত্রাও ছিল বেশ সাম্প্রতিক। ২০২৬ সালের শুরুতে তৃণমূল রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য তাঁর নাম ঘোষণা করেছিল। তাঁর সঙ্গে প্রার্থী করা হয়েছিল রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয় এবং মেনকা গুরুস্বামীর মতো পরিচিত নামকেও। এপ্রিল মাসে কোয়েল উচ্চকক্ষের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। তবে সংসদীয় জীবনে খুব বেশি সময় কাটানোর সুযোগ হয়নি তাঁর। রাজ্যসভার কোনও পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইস্তফা দেওয়ার দিনই কোয়েল মল্লিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন। এই সাক্ষাৎকে ঘিরে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়ে। কারণ, এর আগে তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা কয়েকজন সাংসদও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের পর নতুন রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েছিলেন। ফলে কোয়েলও কি একই পথে যাবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যদিও সেই সময় তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।
{{/usCountry}}ইস্তফা দেওয়ার দিনই কোয়েল মল্লিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন। এই সাক্ষাৎকে ঘিরে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়ে। কারণ, এর আগে তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা কয়েকজন সাংসদও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের পর নতুন রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েছিলেন। ফলে কোয়েলও কি একই পথে যাবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যদিও সেই সময় তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।
{{/usCountry}}এদিকে, শূন্য হয়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনে এখন নতুন করে ভোটের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে। ১৬ অক্টোবর ভোট হলে দুর্গাপুজোর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া হবে। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির কাছে এই নির্বাচনও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কোয়েল মল্লিকের ছেড়ে যাওয়া আসনে শেষ পর্যন্ত কোন দলের প্রার্থী দাঁড়াবেন এবং নির্বাচনের অঙ্ক কোন দিকে যায়। কোয়েলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কৌতূহল রয়েছে। অন্যদিকে, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তাঁর রাজ্যসভা ছেড়ে দেওয়া এবং তার পরেই উপনির্বাচনের আয়োজন—এই গোটা ঘটনাপ্রবাহ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রার্থী বাছাই এবং মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ছবিটা আরও স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে কোয়েল মল্লিক নিজে ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক পথে এগোনেন, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।