৬ এপ্রিল রাতেই শেষ সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকাটি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এই আবহে দেখা যাচ্ছে, এসআইআরে বিবেচনাধীন ভোটারদের তালিকা থেকে সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে। সেই জেলায় মোট ১১ লাখ ১ হাজার ১৪৫ জনের নাম বিবেচনাধীন ছিল। সেখান থেকে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাদ পড়েছে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম। আর এরপরই তালিকায় আছে উত্তর ২৪ পরগনা। বিবেচনাধীন ভোটারদের তালিকায় এই জেলা থেকে নাম ছিল ৫ লক্ষ ৯১ হাজার ২৫২ জনের নাম। সেখান থেকে বাদ পড়েছে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ নাম।

এছাড়া দুই লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া ও মালদায়। পূর্ব বর্ধমানে ৩ লক্ষ ৬৫ হাজারের নাম বিবেচনাধীন ছিল, সেখান থেকে বাদ পড়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮০৫ জনের নাম। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫ লাখ ২২ হাজারের মধ্যে থেকে বাদ পড়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৯২৯ জনের নাম। নদিয়ায় ২ লাখ ৬৭ হাজারের মধ্যে থেকে বাদ পড়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৬২৬ জনের নাম। এবং মালদায় ৮ লাখ ২১ হাজারের মধ্যে বাদ পড়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭৫ জনের নাম।
এছাড়া কোচবিহারে বাদ পড়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৭২৫ জনের নাম, জলপাইগুড়িতে ৩৫ হাজার ৩৫৬, দার্জিলিংয়ে ৪৪ হাজার ২৩০, উত্তর দিনাজপুরে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭২, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৭৬ হাজার ৭৬৮, কলকাতা দক্ষিণে ২৮ হাজার ৪৬৮, কলকাতা উত্তরে ৩৯ হাজার ১৬৪, হাওড়ায় ১ লাখ ৩২ হাজার ১৫১, হুগলিতে ১ লাখ ২০ হাজার ৮১৩, পূর্ব মেদিনীপুরে ১৯ হাজার ৫৭২, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৫২ হাজার ২৭৭, পুরুলিয়ায় ৫৯৪২, বাঁকুড়ায় ৬৫৩৩, বীরভূমে ৮২ হাজার ৫৯, আলিপুরদুয়ারে ৩৬ হাজার ৭৮, কালিম্পঙে ২৪০৭, ঝাড়গ্রামে ১২৪০ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭৪ হাজার ১০০ জনের নাম বাদ গিয়েছে সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে।
উল্লেখ্য, বিবেচনাধীন ভোটারদের তালিকায় ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম। তার মধ্যে থেকে ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম বাদ পড়েছে। সব মিলিয়ে ৯০ লাখেরও বেশি নাম বাদ পড়ল গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ায়। এদিকে ভোটার তালিকা ফ্রিজ করা হয়েছে। তাই এরপর যদি ট্রাইবুনালের নির্দেশে কারও নাম তালিকায় সংযুক্ত হয়, তাহলেও প্রথম দফার নির্বাচনে সেই সব ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, বিবেচনাধীন ভোটারদের তালিকায় ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম। তার মধ্যে থেকে ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম বাদ পড়েছে। সব মিলিয়ে ৯০ লাখেরও বেশি নাম বাদ পড়ল গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ায়। এদিকে ভোটার তালিকা ফ্রিজ করা হয়েছে। তাই এরপর যদি ট্রাইবুনালের নির্দেশে কারও নাম তালিকায় সংযুক্ত হয়, তাহলেও প্রথম দফার নির্বাচনে সেই সব ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, গত বছরের ৪ নভেম্বর থেকে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় এনুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু হয়েছিল। এরপর গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। সেইসময় ৫৮ লক্ষের নাম বাদ যায়। এই সব ভোটারের নামে এনুমারেশন ফর্মই জমা পড়েনি। তাই খসড়া তালিকা থেকেই বাদ পড়েছিল তাদের নাম। এর মধ্য়ে মৃত ভোটার ২৪ লাখ ১৬ হাজার ৮৫২, নিখোঁজ ১২ লাখ ২০ হাজার ৩৮ জন, স্থানান্তরিত রয়েছেন ১৯ লাখ ৮৮ হাজার ৭৬ জন, ভুয়ো ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩২৮ জন এবং অন্যান্য ৫৭ হাজার জন।
এরপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেখানে আরও সাড়ে ৫ লাখের মতো নাম বাদ যায়। সব মিলিয়ে সেই পর্যন্ত এসআইআরের 'চূড়ান্ত তালিকায়' ৬৩ লাখ লোকের নাম বাদ পড়েছিল। এছাড়া আরও প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম ছিল বিচারাধীন। এই আবহে গত ২৩ মার্চ প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হয়। তারপর ২৭ মার্চ থেকে রোজ একটি করে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে শুরু করে নির্বাচন কমিশন। ৬ এপ্রিল রাতে শেষ সাপ্লিমেন্টারি তালিকাটি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।