পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দফতরের নতুন বিজ্ঞাপনী ভিডিও যেন বাংলাকেই ভুলে গেল! বাংলার পর্যটন প্রচারের জন্য তৈরি এক মিনিটের ভিডিওতে জায়গা পেল রোম, মিশর, ব্রাজিল, প্যারিস এবং লন্ডন। আর সেই ভিডিও নিয়েই এখন তুমুল বিতর্ক। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দফতর প্রকাশ করেছে ‘West Bengal: Where India Feels Different’ শিরোনামের একটি ভিডিও। ভিডিওটি শুরু হয়েছে রোমের সেন্ট পিটার্স বাসিলিকা দিয়ে। তার পর একে একে দেখা যাচ্ছে মিশরের পিরামিড, ব্রাজ়িলের বিখ্যাত ‘ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার’, প্যারিসের আইফেল টাওয়ার এবং লন্ডন আই।

বাংলার উপস্থিতি? মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি দৃশ্যে। তার মধ্যে রয়েছে কলকাতার হাওড়া ব্রিজ। কিন্তু বাংলার যে অফুরন্ত পর্যটন সম্পদ রয়েছে, তার বেশির ভাগেরই দেখা নেই ভিডিওতে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, বাংলার পর্যটনের বিজ্ঞাপনে বিদেশি পর্যটনকেন্দ্র দেখানো হচ্ছে কেন? ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। রাজনৈতিক বিভাজনও এখানে কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বিরোধিতা এসেছে বিজেপি এবং তৃণমূল—দুই শিবির থেকেই।
প্রবীণ বিজেপি নেতা তথাগত রায় এক্স হ্যান্ডলে ভিডিওটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ভিডিও অত্যন্ত দুর্বল এবং অপ্রাসঙ্গিক। মস্কো থেকে মিশর, রিও ডি জেনেইরো থেকে লন্ডন—এসব বাংলার পর্যটনের বিজ্ঞাপনে কেন থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ভিডিওটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া উচিত।
তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তাঁর মন্তব্য, ‘ট্র্যাশ’ বললেও নাকি এই ভিডিওর মান কম বলা হয়। সমাজমাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রশ্নও একই। বাংলার পর্যটনের আসল সম্পদগুলি কোথায়? কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। দার্জিলিঙের ঐতিহাসিক টয় ট্রেন। বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা মন্দির। সুন্দরবনের জঙ্গল। ডুয়ার্সের চা-বাগান। কোচবিহারের রাজবাড়ি। মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক স্থাপত্য। এত কিছু থাকতে বিদেশি স্থাপত্যের ছবি কেন?
কেউ কেউ আবার ব্যঙ্গ করে বলেছেন, বাংলায় এমন এক জায়গা আছে যেখানে পৃথিবীর বিখ্যাত বিভিন্ন স্থাপত্যের প্রতিরূপ রয়েছে। নিউটাউনের ইকো পার্কে সেই ‘বিশ্বভ্রমণ’ করা যায়। হয়তো সেই ভাবনা থেকেই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে!
{{/usCountry}}কেউ কেউ আবার ব্যঙ্গ করে বলেছেন, বাংলায় এমন এক জায়গা আছে যেখানে পৃথিবীর বিখ্যাত বিভিন্ন স্থাপত্যের প্রতিরূপ রয়েছে। নিউটাউনের ইকো পার্কে সেই ‘বিশ্বভ্রমণ’ করা যায়। হয়তো সেই ভাবনা থেকেই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে!
{{/usCountry}}তবে এই বিতর্কের মাঝেই রাজ্য সরকারের পর্যটন নীতি নিয়ে বড় পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, রাজ্যের পর্যটন পরিকাঠামো অনেকটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেই কারণে অনেকে দার্জিলিং বা কালিম্পংয়ের বদলে সিকিমে চলে যাচ্ছেন। তাই বাংলার পর্যটন পরিকাঠামো নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
দার্জিলিং থেকে সুন্দরবন—রাজ্যের নানা প্রান্তে পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে বলেও সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। বিপুল অর্থ বিনিয়োগের কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটা থেকে যাচ্ছে বিজ্ঞাপন নিয়েই। পর্যটকদের বাংলায় টানতে গিয়ে যদি বাংলারই ছবি না দেখানো হয়, তবে সেই প্রচারের উদ্দেশ্য কতটা সফল হবে? বিদেশের নামী পর্যটনকেন্দ্র দেখিয়ে কি ‘বাংলার মুখ’ বিশ্বের সামনে তুলে ধরা সম্ভব?