পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা এখন পুরোদমে সক্রিয়। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢোকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েকটি জেলায় জল জমা, ভূমিধস এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কলকাতার আবহাওয়া

কলকাতায় মঙ্গলবার সারাদিনই আকাশ আংশিক থেকে প্রধানত মেঘলা থাকবে। দিনের বিভিন্ন সময়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ের জন্য ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৮০ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে থাকায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি বজায় থাকবে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাভিত্তিক পূর্বাভাস
উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
হাওড়া, হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুর: দিনের বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম: বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা রয়েছে।
পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও পূর্ব বর্ধমান: বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। কিছু এলাকায় মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
{{/usCountry}}পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও পূর্ব বর্ধমান: বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। কিছু এলাকায় মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
{{/usCountry}}বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া: হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজন ছাড়া খোলা মাঠে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতা-সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গেই বর্ষার সক্রিয় প্রভাব বজায় থাকবে। বাইরে বের হলে ছাতা বা রেনকোট সঙ্গে রাখার পাশাপাশি বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কবার্তা
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় দমকা হাওয়া এবং উত্তাল সমুদ্রের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টা মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদে ফিরে আসতে বলা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের জেলাভিত্তিক পূর্বাভাস
দার্জিলিং ও কালিম্পং: ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় পর্যটক ও স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার: ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। নদী ও খালের জলস্তর বাড়তে পারে।
উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা: মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎসহ দমকা হাওয়াও বইতে পারে।
আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাস
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দু'তিন দিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ প্রায় একই রকম থাকবে। উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতিও বজায় থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ি এলাকা, নদী সংলগ্ন অঞ্চল এবং জল জমার প্রবণতা রয়েছে এমন এলাকায় প্রশাসনের তরফে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।