ভোটার তালিকা থেকে ইতিমধ্যেই নাম বাদ পড়েছে। কিন্তু সেই ব্যক্তিকেই নাকি আবার আসন্ন নির্বাচনে থার্ড পোলিং অফিসারের ডিউটি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে। রিপোর্ট অনুযায়ী, জগদীশ রায় নামে সেই ব্যক্তি পেশায় শিক্ষক। তিনি মুন্সী প্রেমচাঁদ কলেজে বাংলা পড়ান। আবার চম্পাসারি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য তথা তৃণমূল নেতা।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জগদীশ রায় বলেন, 'একদিকে কমিশন আমার নাম কেটে দিল। অপরদিকে ভোটের দায়িত্ব দিচ্ছে। আমি যদি বৈধ নাগরিক না হয়ে থাকি তাহলে আমাকে ভোটের ডিউটিতে কেন রাখা হচ্ছে? তাছারা আমি তৃণমূলের নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য। যে শাসকে এত এলার্জি তাঁকে দিয়ে ভোট করাবে কমিশন? ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার বাবা-মায়ের নাম রয়েছে। বাবা-মা ভোট দিয়েছেন। এখনকার তালিকাতেও বাবা-মায়ের নাম রয়েছে, আমার নেই। আমাকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল। সব নথি দিয়েছি। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদীতভাবে বিজেপি আমার নামটা বাদ দিয়েছে।'
উল্লেখ্য, বাংলায় এসআইআরের 'চূড়ান্ত তালিকায়' ৬৩ লাখ লোকের নাম বাদ পড়েছিল। এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্বে গোটা রাজ্যে বাদ পড়ে প্রায় ৫৮ লাখ ভোটারের নাম। এই সব ভোটারের নামে এনুমারেশন ফর্মই জমা পড়েনি। তাই খসড়া তালিকা থেকেই বাদ পড়েছিল তাদের নাম। এর মধ্য়ে মৃত ভোটার ২৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৫২, নিখোঁজ ১২ লক্ষ ২০ হাজার ৩৮ জন, স্থানান্তরিত রয়েছেন ১৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৬ জন, ভুয়ো ভোটার ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩২৮ জন এবং অন্যান্য ৫৭ হাজার জন। তারপর 'চূড়ান্ত তালিকায়' আরও প্রায় ৫ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ে। এছাড়া আরও প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম ছিল বিচারাধীন। এই আবহে বিচারাধীন ভোটারদের যোগ্যতা বিচার করতে বিচারপতিদের নিয়োগ করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। সেই মতো বিচারাধীন থাকা ভোটারদের নথি যাচাই বাছাই করে তা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। আর একেক করে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হতেই রাজ্য জুড়ে লাখ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ছে।