Chopra Congress Candidate: উত্তর দিনাজপুরে কংগ্রেস বনাম তৃণমূলের সংঘাত যেন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ১৪ এপ্রিল এই জেলার রায়গঞ্জে সভা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দেগেছিলেন রাহুল গান্ধী। আবার তার আগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস অভিযোগ করেছিল, রাহুলের হেলিপ্টার যে হেলিপ্যাডে নামার কথা ছিল, তা ভাঙা হচ্ছিল। সব মিলিয়ে এই দুই দলের 'দিল্লির দোস্তি' বঙ্গে উধাও। আর এবার চোপড়ায় কংগ্রেস প্রার্থীকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে পর্যন্ত 'পাথর ছোড়ার' ঘটনা ঘটত কাশ্মীরে। সেই কাশ্মীরে পাথর ছোড়ার ঘটনা থেমে গিয়েছে। তবে তা এখন বাংলায় 'আমদানি' হয়েছে। এদিকে উত্তরবঙ্গে সংখ্যালঘু ভোট নিজেদের ঝুলিতে টানতে 'সম্মুখ সমরে' কংগ্রেস এবং তৃণমূল।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪ এপ্রিল চোপড়া বিধানসভা এলাকার মাঝিয়ালি অঞ্চলে কংগ্রেস প্রার্থী জাকির আবেদিনকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে যায়। জানা গিয়েছে, নিজের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মাঝিয়ালি অঞ্চলে প্রচারে বেরিয়েছিলেন জাকির। যখন জাকিররা বিশ্বাসটোলি এলাকায় পৌঁছায়, তখন তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। প্রচারে ব্যবহৃত একটি গাড়িতে গিয়ে লাগে পাথর। ঘটনায় বেশ কয়েকজন কর্মী জখম হয়েছেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি নইমুল হকের নেতৃত্বেই এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রার্থীর দাবি, অনুমতি নিয়ে শান্তিপূর্ণ মিছিল করার সময় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের পালটা অভিযোগ, কংগ্রেস প্রচার পেতে মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে। চোপড়ার ব্লক কোর কমিটির সদস্য গোপাল ভৌমিক বলেন, এই ধরনের কিছু হয়েছে বলে জানা নেই। এদিকে অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গ্রামেই অবস্থানে বসেন প্রার্থী জাকির আবেদিন ও ব্লক সভাপতি মহম্মদ নসিরউদ্দিন। এদিকে ঘটনার তদন্ত শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে বাহিনী মোতায়েন রয়েছে সেখানে। ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার রাকেশ সিংহ বলেন, 'একটা গন্ডগোলের খবর পেয়ে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে ভীতি কাটাতে এলাকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'