ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন এ বার নতুন বিতর্কে। ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির কর্মসূচিতে যোগ দিতে কলেজ পড়ুয়াদের টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুললেন বিজেপির দুই বিধায়ক। তাঁদের দাবি, আন্দোলনে সামিল হলে প্রতিদিন ১০০ ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি, কাউকে মাসে ৯৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। রবিবার সন্ধ্যায় আরামবাগে সাংবাদিক বৈঠক করে এই দাবি করেন আরামবাগের বিধায়ক হেমন্ত বাগ এবং পুড়শুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ। তাঁদের বক্তব্য, এই অভিযোগের সূত্র ধরে সিজেপির আন্দোলনে বিদেশি অর্থের জোগান রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে বিজেপি বিধায়কদের এই দাবি এখনও স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। সিজেপির তরফে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের জবাবও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
কী অভিযোগ বিজেপি বিধায়কদের?

বিমান ঘোষের দাবি, পুড়শুড়া বিধানসভা এলাকার এক কলেজ পড়ুয়ার কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছেন তাঁরা। নিরাপত্তার কারণে ওই পড়ুয়ার নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রমাণ হিসাবে কয়েকটি কথোপকথনের স্ক্রিনশটও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন দুই বিধায়ক।
বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, আরামবাগের মতো প্রান্তিক এলাকার কলেজ পড়ুয়াদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে সিজেপির আন্দোলনে যোগ দিতে বলা হচ্ছে। ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করলে অর্থ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। বিমান ঘোষের বক্তব্য, এই ঘটনার পিছনে বিদেশি অর্থের জোগান রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা দরকার। বাংলাদেশ-সহ বিদেশের কোনও সূত্র থেকে টাকা আসছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
দিনে ১০০ ডলার, মাসে কত টাকা?
বিজেপি বিধায়কদের দাবি অনুযায়ী, প্রতিদিন ১০০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে কথোপকথনে। বর্তমান বিনিময়মূল্যের কাছাকাছি হিসাবে তা দিনে প্রায় ৯,৫৮৭ টাকা। সেই হিসাবে ৩০ দিনে অঙ্কটি দাঁড়ায় প্রায় ২ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা। অন্য দিকে, আরও এক জনকে মাসে ৯৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। তবে এই দুটি অঙ্কের মধ্যে কী সম্পর্ক, কিংবা দ্বিতীয় দাবিটির ভিত্তি কী, তা স্পষ্ট নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হলে অর্থের উৎস এবং প্রস্তাবের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
বিদেশি অর্থের জোগান নিয়ে প্রশ্ন
সিজেপির আন্দোলনে বিদেশি অর্থ আসছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনও সংগঠনটির আন্দোলনের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে বিদেশি অর্থের জোগান নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত তদন্তের ফল প্রকাশ্যে আসেনি।
{{/usCountry}}সিজেপির আন্দোলনে বিদেশি অর্থ আসছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনও সংগঠনটির আন্দোলনের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে বিদেশি অর্থের জোগান নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত তদন্তের ফল প্রকাশ্যে আসেনি।
{{/usCountry}}সিজেপির আন্দোলনের মূল বিষয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সংগঠনের সমর্থকেরা। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
এ বার সেই আন্দোলনের অর্থের উৎস নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল। বিজেপি বিধায়কদের অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তার বিস্তারিত তথ্য এখনও মেলেনি। তবে কলেজ পড়ুয়াদের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হলে আন্দোলনের পিছনে অর্থের জোগান নিয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। আপাতত অভিযোগ এবং তার প্রমাণের মধ্যে ফারাক রেখেই গোটা বিষয়টি দেখা প্রয়োজন।