পশ্চিমবঙ্গে এবার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবির তৃণমূলের থেকে আড়াই গুণেরও বেশি আসন পেয়েছে এবারে। তবে আসনের ক্ষেত্রে এতটা ফারাক থাকলেও ভোটের হারের নিরিখে দুটি দলের ফারাক ততটাও ছিল না। হিসেব করে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি বিরোধী ভোট ভাগাভাগির কারণে তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় তিন ডজন আসন হারিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, এক ডজনেরও বেশি আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের হারের ব্যবধানের থেকে কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা বেশি। ২০২১ সালে এই আসনগুলির মধ্যে দশটি আসন তৃণমূল জিতেছিল। কিন্তু এবার তৃণমূল ও বিজেপির জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে কংগ্রেস। এদিকে ৬টি আসনে তৃণমূলের হারের ব্যবধানের থেকে নোটায় বেশি ভোট পড়েছে। এই আসনগুলিতে আবার কংগ্রেসও নোটার চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে। সব মিলিয়ে বহু আসনে কংগ্রেস 'ভোট কাটায়' কপালে হাত পড়েছে তৃণমূলের।

বাংলায় মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসন রয়েছে, যার মধ্যে তৃণমূল 80 টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি ২০৭টি আসন জিতেছে। কংগ্রেস ২টি আসন জিতেছে। এবং সিপিএম ১টি, আইএসএফ ১টি, হুমায়ুন কবির ২টি আসনে জিতেছে। দেখা যাচ্ছে, মালদা, মুর্শিদাবাদের বহু আসনে মুসলিম ভোটে বিভাজনের সুবিধা পেয়েছে বিজেপি। মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুরের মোট ৪৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০টি জিতেছে। এখানে বাম, কংগ্রেস এবং হুমায়ুনের পার্টি অনেক সংখ্যালঘু ভোট পেয়েছে। এর ফলে তৃণমূলের ভোট কমেছে। এই আবহে বিজেপির সুবিধা হয়েছে। এই তিন জেলার ৪৩টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতেই তৃণমূল জিতেছিল গত ২০২১ সালের ভোটে।
এদিকে ভোটে শোচনীয় পরাজয়ের পরে বাম, কংগ্রেস, অতিবামদের সঙ্গে নিয়ে জোট গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্তরে বাম, কংগ্রেস, তৃণমূল ইন্ডিয়া জোটে আছে। তবে রাজ্যে তারা আলাদা লড়েছে। এই আবহে দেখতে গেলে, রাজ্যে বিজেপি বিরোধী ভোট পড়েছ ৫৫ শতাংশের বেশি। এর আগে বিভাজিত বিরোধীদের জন্য গুজরাটেও নির্বাচনী লাভ পেয়েছিল বিজেপি। ২০২২ সালের গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির ভোট কাটাকাটির জন্য কংগ্রেস ৩৯টি আসনে হেরেছিল।