...
...
Next Story

খাবারের নামে বিষ! কোন কোন নামী রেস্তোরাঁয় পাওয়া গেল কী?

বাংলার বিভিন্ন জেলার একাধিক রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে হানা দেন আধিকারিকেরা। সামনে আসে নানা অনিয়মের ছবি। কোথাও মিলেছে পচা মাছ-মাংস। কোথাও মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া খাবার। আবার কোথাও খাবারে ব্যবহার করা হচ্ছিল বিষাক্ত রং। রান্নাঘর ও ফ্রিজের অপরিচ্ছন্নতাও ধরা পড়েছে একাধিক জায়গায়।

Published on: Sep 5, 2026, 19:28:55 IST
Advertisement

রাজ্য জুড়ে গত এক সপ্তাহ ধরে খাদ্য দফতরের অভিযান। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি, হাওড়া থেকে বর্ধমান—বিভিন্ন জেলার একাধিক রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে হানা দেন আধিকারিকেরা। সামনে আসে নানা অনিয়মের ছবি। কোথাও মিলেছে পচা মাছ-মাংস। কোথাও মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া খাবার। আবার কোথাও খাবারে ব্যবহার করা হচ্ছিল বিষাক্ত রং। রান্নাঘর ও ফ্রিজের অপরিচ্ছন্নতাও ধরা পড়েছে একাধিক জায়গায়।

গত কয়েকদিনে বাংলার বিভিন্ন জেলার একাধিক রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে হানা দেন আধিকারিকেরা।
গত কয়েকদিনে বাংলার বিভিন্ন জেলার একাধিক রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে হানা দেন আধিকারিকেরা।

খাদ্য দফতরের অভিযানে সবচেয়ে বেশি চর্চায় এসেছে কলকাতার সেক্টর ফাইভের বারবিকিউ নেশন। সেখানে বিপুল পরিমাণ পচা খাবার পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। রান্নাঘরে দেখা যায় পোকামাকড়। ছিল যথেষ্ট অস্বাস্থ্যকর পরিবেশও। এরপর রেস্তোরাঁটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানটি।

মধ্যমগ্রামের স্টার মলের রং দে বাসন্তী ধাবাতেও মিলেছে গুরুতর অনিয়ম। আধিকারিকেরা সেখানে পচা মাছ ও মাংসের সন্ধান পান। বেশ কিছু খাবার ছিল মেয়াদ উত্তীর্ণ। লঙ্কাতেও ছত্রাক পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে। এই রেস্তোরাঁর লাইসেন্সও বাতিল হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দোকান।

সোদপুরের বারবিকিউ নেশনেও অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে পচা খাবার উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছে। আপাতত খাবার বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যশোর রোডের আরসালানেও উঠে এসেছে একাধিক অভিযোগ। পুরনো ও পচা মাংসের পাশাপাশি অপরিষ্কার ফ্রিজ পাওয়া যায়। পচা রসুনও ছিল। এমনকি রান্নার কড়াইয়ে ডিটারজেন্ট থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিস দিয়েছে খাদ্য দফতর।

সল্টলেকের সেক্টর থ্রির চৌরাশিয়া চাটেও একই ছবি। সেখানে বিষাক্ত হলুদ রং পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। বেশ কিছু পুরনো তৈরি খাবারও মিলেছে। এই দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

চন্দননগরের রেড চিলিজে দীর্ঘদিন ধরে রাখা চিংড়ি ও পচা মাংস পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিস দিয়েছে খাদ্য দফতর।

উত্তরপাড়ার অমর মিষ্টান্নেও ছিল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। রসগোল্লার গামলায় আরশোলা পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। দইয়ের মধ্যে মাছিও দেখা যায়। দোকানটিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।

কলকাতার ট্যাংরার বিগ বসে প্রায় ১০০ কেজি পুরনো মাংস ও চিংড়ি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেখানেও নোটিস দেওয়া হয়েছে।

শিলিগুড়ির সেবক রোডের মাখনভোগেও ধরা পড়ে ভয়াবহ ছবি। মিষ্টির মধ্যে মরা আরশোলা পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। দোকানের পরিবেশেও ছিল পোকামাকড় ও অপরিচ্ছন্নতা। আপাতত দোকানটি সাময়িক ভাবে সিল করে দেওয়া হয়েছে। বর্ধমানের গণেশ মিষ্টান্নেও মিলেছে মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির ও আইসক্রিম। বিষাক্ত রং ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। দোকানটিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।

অবনী মলের শিবপুরের বারবিকিউ নেশনেও মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। সেখানেও নোটিস দিয়েছে খাদ্য দফতর। গত এক সপ্তাহের এই অভিযানে তাই একাধিক নামী দোকানের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামনে এসেছে সংরক্ষণে গাফিলতি থেকে বিষাক্ত রং ব্যবহারের মতো অভিযোগ। খাবারের মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে এবার আরও কড়া নজরদারির বার্তাই দিল খাদ্য দফতরের অভিযান।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe