রাজ্য জুড়ে গত এক সপ্তাহ ধরে খাদ্য দফতরের অভিযান। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি, হাওড়া থেকে বর্ধমান—বিভিন্ন জেলার একাধিক রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে হানা দেন আধিকারিকেরা। সামনে আসে নানা অনিয়মের ছবি। কোথাও মিলেছে পচা মাছ-মাংস। কোথাও মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া খাবার। আবার কোথাও খাবারে ব্যবহার করা হচ্ছিল বিষাক্ত রং। রান্নাঘর ও ফ্রিজের অপরিচ্ছন্নতাও ধরা পড়েছে একাধিক জায়গায়।

খাদ্য দফতরের অভিযানে সবচেয়ে বেশি চর্চায় এসেছে কলকাতার সেক্টর ফাইভের বারবিকিউ নেশন। সেখানে বিপুল পরিমাণ পচা খাবার পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। রান্নাঘরে দেখা যায় পোকামাকড়। ছিল যথেষ্ট অস্বাস্থ্যকর পরিবেশও। এরপর রেস্তোরাঁটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানটি।
মধ্যমগ্রামের স্টার মলের রং দে বাসন্তী ধাবাতেও মিলেছে গুরুতর অনিয়ম। আধিকারিকেরা সেখানে পচা মাছ ও মাংসের সন্ধান পান। বেশ কিছু খাবার ছিল মেয়াদ উত্তীর্ণ। লঙ্কাতেও ছত্রাক পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে। এই রেস্তোরাঁর লাইসেন্সও বাতিল হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দোকান।
সোদপুরের বারবিকিউ নেশনেও অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে পচা খাবার উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছে। আপাতত খাবার বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যশোর রোডের আরসালানেও উঠে এসেছে একাধিক অভিযোগ। পুরনো ও পচা মাংসের পাশাপাশি অপরিষ্কার ফ্রিজ পাওয়া যায়। পচা রসুনও ছিল। এমনকি রান্নার কড়াইয়ে ডিটারজেন্ট থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিস দিয়েছে খাদ্য দফতর।
পানিহাটির বিটি রোডের চাকনাওয়ালাতেও ধরা পড়েছে অনিয়ম। ফ্রিজ ছিল অপরিষ্কার। হলুদ গুঁড়োয় বিষাক্ত রং মেশানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর লাইসেন্স বাতিল করে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}পানিহাটির বিটি রোডের চাকনাওয়ালাতেও ধরা পড়েছে অনিয়ম। ফ্রিজ ছিল অপরিষ্কার। হলুদ গুঁড়োয় বিষাক্ত রং মেশানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর লাইসেন্স বাতিল করে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}সল্টলেকের সেক্টর থ্রির চৌরাশিয়া চাটেও একই ছবি। সেখানে বিষাক্ত হলুদ রং পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। বেশ কিছু পুরনো তৈরি খাবারও মিলেছে। এই দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
চন্দননগরের রেড চিলিজে দীর্ঘদিন ধরে রাখা চিংড়ি ও পচা মাংস পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিস দিয়েছে খাদ্য দফতর।
উত্তরপাড়ার অমর মিষ্টান্নেও ছিল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। রসগোল্লার গামলায় আরশোলা পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। দইয়ের মধ্যে মাছিও দেখা যায়। দোকানটিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।
কলকাতার ট্যাংরার বিগ বসে প্রায় ১০০ কেজি পুরনো মাংস ও চিংড়ি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেখানেও নোটিস দেওয়া হয়েছে।
শিলিগুড়ির সেবক রোডের মাখনভোগেও ধরা পড়ে ভয়াবহ ছবি। মিষ্টির মধ্যে মরা আরশোলা পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। দোকানের পরিবেশেও ছিল পোকামাকড় ও অপরিচ্ছন্নতা। আপাতত দোকানটি সাময়িক ভাবে সিল করে দেওয়া হয়েছে। বর্ধমানের গণেশ মিষ্টান্নেও মিলেছে মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির ও আইসক্রিম। বিষাক্ত রং ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। দোকানটিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।
অবনী মলের শিবপুরের বারবিকিউ নেশনেও মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। সেখানেও নোটিস দিয়েছে খাদ্য দফতর। গত এক সপ্তাহের এই অভিযানে তাই একাধিক নামী দোকানের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামনে এসেছে সংরক্ষণে গাফিলতি থেকে বিষাক্ত রং ব্যবহারের মতো অভিযোগ। খাবারের মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে এবার আরও কড়া নজরদারির বার্তাই দিল খাদ্য দফতরের অভিযান।