...
...
Next Story

West Bengal Firecracker Rules: রাতভোর বাজি ফাটানো যাবে না! কালীপুজোয় ফানুস নিয়েও শর্ত, আরও একাধিক নিয়ম নবান্নের

West Bengal Firecracker Rules: নবান্নের সভাঘর থেকে স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ গ্রিন বাজি ব্যবহারে জোর দেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন, বাজি পোড়ানোর ফলে বায়ু ও শব্দদূষণের প্রভাব শুধু অন্যের উপরেই পড়ে না, এতে যিনি বাজি পোড়ান, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ক্ষতি হতে পারে।

Updated on: Oct 29, 2026, 16:03:08 IST
Advertisement

West Bengal Firecracker Rules: সুপ্রিম কোর্টের রায় ধরেই কালীপুজো এবং ছটপুজোয় বাজি পোড়ানোয় কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করল রাজ্য সরকার। উৎসবের আনন্দে যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয় এবং জনজীবন বিপন্ন না হয়, সেদিকে লক্ষ রেখেই এই নিয়মাবলী তৈরি করা হয়েছে। কালীপুজো ও ছটপুজোয় বাজির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার নবান্নের সভাঘরে সাংবাদিক বৈঠকে এই নিয়ে বিস্তারিত জানালেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা ও স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ-সহ দমকল ও পরিবেশ দফতরের আধিকারিকেরাও। আতশবাজি পোড়ানোর উপর পাঁচ ধাপে নজরদারির কথাও জানানো হয়েছে, সঙ্গে বেআইনি বাজির ব্যবসার ক্ষেত্রে যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বিষয়টিও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

আতশবাজির দাপটে রাশ টানতে পাঁচস্তরীয় নজরদারির সিদ্ধান্ত নবান্নের
আতশবাজির দাপটে রাশ টানতে পাঁচস্তরীয় নজরদারির সিদ্ধান্ত নবান্নের

রাজ্যে কালীপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেছে পুলিশ-প্রশাসন। এরপর যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে তারা। নবান্নের সভাঘর থেকে স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ গ্রিন বাজি ব্যবহারে জোর দেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন, বাজি পোড়ানোর ফলে বায়ু ও শব্দদূষণের প্রভাব শুধু অন্যের উপরেই পড়ে না, এতে যিনি বাজি পোড়ান, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ক্ষতি হতে পারে। বিশেষত শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা বেশি সমস্যায় পড়েন। তাই শুধু প্রশাসনের নজরদারি বা আইনের প্রয়োগের উপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপরেও জোর দিয়েছে সরকার। তাঁর কথায়, 'নিজের আনন্দ যেন অন্যের দুঃখের কারণ না হয়।' তিনি মনে করেন, প্রশাসনের কড়াকড়ির থেকে মানুষের সচেতনা বেশি জরুরি। তাই বাজি ব্যবহার নিয়ে সকলের মধ্যে সচেতনা বৃদ্ধি করতে হবে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দীপাবলিতে রাত ৮টা থেকে ১০টা এবং ছটপুজোয় ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানো যাবে। নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে বাজি পোড়ানো চলবে না। ছটপুজোর ক্ষেত্রে পুজোর সময় বিবেচনা করেই আদালত এই সময়সীমা নির্ধারণ করেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রসচিব। তাঁর বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ মেনে চলতেই হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের তরফে কোনও শিথিলতা দেখানো হবে না। শব্দের মাত্রা নিয়েও সতর্ক করেছে রাজ্য। স্বরাষ্ট্রসচিব জানান, শব্দবাজির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শব্দসীমা ১২৫ ডেসিবেল। আলোর বাজির ক্ষেত্রে শব্দের মাত্রা ৯০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে। তাঁর দাবি, অনুমোদিত সবুজ বাজি ব্যবহারে দূষণ কমানোর পাশাপাশি নির্ধারিত বিধি মেনে চলা সহজ হবে। সবুজ বাজিতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার এবং সূক্ষ্ম ধূলিকণার নির্গমন তুলনামূলক কম থাকে। তাই সাধারণ মানুষকে অন্য বাজি না কিনে অনুমোদিত সবুজ বাজি কেনার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন। তিনি স্পষ্ট জানান, সাইলেন্ট জোন অর্থাৎ হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, বৃদ্ধাশ্রমের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও শব্দবাজি ফাটানো যাবে না। সেখানে নীরবতা বজায় রাখতে হবে।

এ ছাড়া ফানুস বা গরম বাতাসের বেলুন ওড়ানোর ক্ষেত্রেও বিধি মানার উপর জোর দিয়েছে পুলিশ। ডিজি জানান, এ ধরনের বেলুন ওড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট বিধি রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া তা করা যাবে না। দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট আইন কঠোর ভাবে কার্যকর করা হবে। বেআইনি বাজি আটকাতে শুধু উৎসবের আগে কয়েক দিনের অভিযান যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে প্রশাসন। তবে দীপাবলি ও ছটপুজোর আগে হাতে থাকা সময়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং নজরদারি জোরদার করাই আপাতত প্রধান লক্ষ্য। স্বরাষ্ট্রসচিবের আবেদন, উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই দূষণ ও দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করুন সাধারণ মানুষ। কালীপুজোর আগে কন্ট্রোল রুম চালু করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রসচিব। বাজি সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ থাকলে সাধারণ মানুষ সেখানে জানাতে পারবেন।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks