'চিকেন নেককে কেন বন্ধ করবে, কারও বাবার জমি নাকি।' বঙ্গে এসে বিরোধী জোট ইন্ডিয়াকে নিশানা করে শিলিগুড়ি ও উত্তরবঙ্গের কৌশলগত গুরুত্ব ব্যাখ্যা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গকে বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি দিতে বড় ঘোষণা করলেন তিনি। অনুপ্রবেশ রুখতে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগও তুলেছেন অমিত শাহ।
উত্তরবঙ্গে বঞ্চনা ও সিন্ডিকেট

শনিবার শিলিগুড়ির সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া আক্রমণ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'দিদির নজরে উত্তরবঙ্গ শুধু সোনার ডিম পাড়া মুরগি। এটা বেশিদিন চলবে না। আপনার টাটা বাই বাই-এর সময় এসে গিয়েছে। এই বছরের এপ্রিলের শেষে আপনাকে বিদায় নিতে হবে। ' একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য এক বিশেষ প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, জনসংখ্যা ও আয়তন অনুযায়ী উত্তরবঙ্গের প্রাপ্য বাজেটের থেকে অন্তত এক টাকা হলেও বেশি বরাদ্দ করবে বিজেপি সরকার। উত্তরবঙ্গে একটি এইমসের প্রয়োজন। তাঁর কথায়, 'আমরা উত্তরবঙ্গবাসী কথা দিচ্ছি, উত্তরবঙ্গের আয়তন এবং জনসংখ্যার হিসাবে যে পরিমাণ বাজেট হওয়ার কথা, তার চেয়ে এক টাকা হলেও বেশি বাজেট দেব উত্তরবঙ্গের জন্য। অন্যায় হতে দেব না।'
শাহ আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি ১০ লক্ষ কোটিরও বেশি টাকা পশ্চিমবঙ্গে পাঠিয়েছেন। কংগ্রেসের আমলে সরকারকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমর্থন দিয়েছেন। ওরা ১০ বছরে দু লক্ষ কোটি পাঠিয়েছে। মোদীজি পাঠিয়েছেন ১০ লক্ষ কোটি। আপনাদের কাছে কিছু এসেছে? তাহলে এই ১০ লক্ষ কোটি টাকা কোথায় গেল? এই ১০ লক্ষ কোটি টাকা তৃণমূলের সিন্ডিকেটের কাছে চলে গিয়েছে। আপনারা বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিন, সিন্ডিকেটের সকলকে জেলে পুরে দেব।'
চিকেন নেক
শিলিগুড়ি ও উত্তরবঙ্গের কৌশলগত গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অমিত শাহ স্মরণ করিয়ে দেন ‘চিকেন নেক’ করিডোরের কথা। তিনি বলেন, 'উত্তরবঙ্গ এবং শিলিগুড়ি বিজেপির দুর্ভেদ্য গড়। শিলিগুড়ি অঞ্চলকে গোটা দেশ ভালবাসে। শিলিগুড়ি উত্তরপূর্বে যাওয়ার রাস্তা। সেই কারণে ভালবাসে। কিছু দিন আগে কয়েক জন দিল্লিতে স্লোগান তোলে, চিকেন নেককে বন্ধ করে দেবে। কেন বন্ধ করবে, কারও বাবার জমি নাকি। এটা ভারতের জমি, কেউ হাত লাগাতে পারবে না। দিল্লি পুলিশ তাদের জেলে পুরে দিয়েছে।' তিনি আরও অভিযোগ করেন, যারা এই ষড়যন্ত্র করেছিল, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকরা তাদের জেল থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, 'বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ওদের ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত গিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হয়। সুপ্রিম কোর্টও ওদের দাবি খারিজ করে দিয়েছে।'
অনুপ্রবেশ ও অমিত শাহের চ্যালেঞ্জ
{{/usCountry}}শিলিগুড়ি ও উত্তরবঙ্গের কৌশলগত গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অমিত শাহ স্মরণ করিয়ে দেন ‘চিকেন নেক’ করিডোরের কথা। তিনি বলেন, 'উত্তরবঙ্গ এবং শিলিগুড়ি বিজেপির দুর্ভেদ্য গড়। শিলিগুড়ি অঞ্চলকে গোটা দেশ ভালবাসে। শিলিগুড়ি উত্তরপূর্বে যাওয়ার রাস্তা। সেই কারণে ভালবাসে। কিছু দিন আগে কয়েক জন দিল্লিতে স্লোগান তোলে, চিকেন নেককে বন্ধ করে দেবে। কেন বন্ধ করবে, কারও বাবার জমি নাকি। এটা ভারতের জমি, কেউ হাত লাগাতে পারবে না। দিল্লি পুলিশ তাদের জেলে পুরে দিয়েছে।' তিনি আরও অভিযোগ করেন, যারা এই ষড়যন্ত্র করেছিল, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকরা তাদের জেল থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, 'বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ওদের ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত গিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হয়। সুপ্রিম কোর্টও ওদের দাবি খারিজ করে দিয়েছে।'
অনুপ্রবেশ ও অমিত শাহের চ্যালেঞ্জ
{{/usCountry}}এদিন অনুপ্রবেশ রুখতে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, 'আমি আজ কথা দিয়ে যাচ্ছি, অনুপ্রবেশ শুধু বন্ধই করব না। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ধরে ধরে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠাব।' তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর-কে ভয় পাচ্ছেন কারণ এটি কার্যকর হলে অনুপ্রবেশকারীরা চিহ্নিত হয়ে যাবে এবং ভোটব্যাঙ্কে টান পড়বে। শাহ বলেন, 'সেই জন্যই মমতাদি এসআইআর-কে ভয় পাচ্ছেন। কারণ উনি জানেন, এসআইআর হলে অনুপ্রবেশকারীরা বেরিয়ে যাবে।' তিনি জানান, '২০২৬ সালের ভোটে তৃণমূল সরকারকে সমূলে উৎখাত করতে হবে।' তৃণমূলের ‘মা মাটি মানুষ’ স্লোগান নিয়েও রাজ্যের শাসকদলকে বিঁধেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এ রাজ্যে মহিলারা সুরক্ষিত বোধ করতে পারেন না।
রাজ্যে গরু পাচার মামলা থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলা-সহ বিভিন্ন ঘটনায় তৃণমূলের বিভিন্ন নেতার নাম উঠে এসেছে। সেই অভিযোগের কথা শিলিগুড়ি থেকে ফের তুলে ধরেন অমিত শাহ। অভিযুক্তদের নাম ধরে বলেন, 'যদি আপনি দুর্নীতিকে সমর্থনে না থাকেন, তাহলে এই ২৩ জনকে ভোটের টিকিট দেবেন না। তাহলে বুঝব আপনি দুর্নীতিতে সমর্থন করেন না।' এরপরেই অমিত শাহ বলেন, 'উনি টিকিট দেবেন। টিকিট না দিলে ওরা ভাইপোর নাম বলে দেবে।' শাহ বলেন, 'আজ গোটা দেশে বিজেপি এবং এনডিএ-র ২১টি সরকার রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে আমাদের ৬০ জন কর্মীকে খুন করেছে তৃণমূলের গুন্ডারা। বিজেপির কর্মীরা কী তা সহ্য করবেন? উত্তরবঙ্গের কর্মীরা কী তা সহ্য করবেন? ২১টি সরকার গঠনের পরেও নরেন্দ্র মোদী খুশি নন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করার পরে তাঁর মুখে হাসি ফুটবে।'