Amit Shah: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই যেন নতুন নতুন নাটকীয় মোড় নিচ্ছে বাংলার রাজনীতি। এই মুহূর্তে সেই নাটকের কেন্দ্রে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছিল, বিজেপির সঙ্গে নাকি হাজার কোটি টাকার গোপন চুক্তি করেছেন হুমায়ুন। শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির সংকল্পপত্র প্রকাশের মঞ্চ থেকে সেই অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সব মিলিয়ে রহস্যের জালে এখন বন্দি হুমায়ুন কবীর।
ভিডিও-র নেপথ্যে কী?

বৃহস্পতিবার শাসকদল তৃণমূলের তরফে একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এনে দাবি করা হয়, রাজ্যের মুসলিম ভোট বিজেপির বাক্সে ট্রান্সফার করার জন্য এক হাজার কোটি টাকার গোপন চুক্তি করেছেন হুমায়ুন। শুধু তাই নয়, ৩০০ কোটি টাকা তিনি অগ্রিম নিয়েছেন বলেও ভিডিওতে দাবি করা হয়। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। এরপরেই রাজ্যে যখন হুমায়ুনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল, তখনই আসরে নামলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশের মঞ্চে অমিত শাহকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত কড়া মেজাজে জবাব দেন। শাহের কথায়, ‘আমাদের মধ্যে কোনও মিল হতে পারে না। বাংলায় বাবরি মসজিদ যারা বানায়, তাদের সঙ্গে জোটের চেয়ে বিরোধীদের আসনে কুড়ি বছর বসে থাকতে রাজি আছি, কিন্তু তবুও এই ধরণের মানুষের সঙ্গে হাত মেলাবে না বিজেপি।'
এদিন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতা জানেন না। উনি চাইলে এমন একটা নয়, দু-হাজার ভিডিও বানিয়ে দিতে পারেন। হুমায়ুন কবীর এবং ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুর মতো দূরত্ব।' শাহের এই মন্তব্যে কার্যত হুমায়ুনের সেই সুরই প্রতিধ্বনিত হল, যেখানে হুমায়ুন দাবি করেছিলেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৃণমূল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। শাহের মতে, বিজেপির মতো একটি আদর্শবাদী দল কখনওই এই ধরণের মানুষকে নিয়ে রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। এদিকে, হুমায়ুনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি আগেই খারিজ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থাৎ এআই-এর সাহায্য নিয়ে করা হয়েছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। এ ব্যাপারে সিবিআই তদন্তের দাবি করুন হুমায়ুন, এরকম বার্তাও শোনা গিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর মুখে।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি
{{/usCountry}}এদিন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতা জানেন না। উনি চাইলে এমন একটা নয়, দু-হাজার ভিডিও বানিয়ে দিতে পারেন। হুমায়ুন কবীর এবং ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুর মতো দূরত্ব।' শাহের এই মন্তব্যে কার্যত হুমায়ুনের সেই সুরই প্রতিধ্বনিত হল, যেখানে হুমায়ুন দাবি করেছিলেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৃণমূল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। শাহের মতে, বিজেপির মতো একটি আদর্শবাদী দল কখনওই এই ধরণের মানুষকে নিয়ে রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। এদিকে, হুমায়ুনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি আগেই খারিজ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থাৎ এআই-এর সাহায্য নিয়ে করা হয়েছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। এ ব্যাপারে সিবিআই তদন্তের দাবি করুন হুমায়ুন, এরকম বার্তাও শোনা গিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর মুখে।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি
{{/usCountry}}সরকার গড়ার ছ'মাসের মধ্যেই বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) কার্যকর করা হবে। ইস্তাহারে এমনই ঘোষণা করেছে বিজেপি। শুক্রবার নিউ টাউনে বিজেপির সংকল্পপত্র প্রকাশের মঞ্চে এই ঘোষণাই করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শাহ জানান, উত্তরাখণ্ড, গুজরাটের মতো বাংলাতেও ইউসিসি কার্যকর হবে। বলে রাখা ভালো, বিজেপি তথা গেরুয়া শিবিরের দীর্ঘ দিনের দাবি, দেশে ইউসিসি চালু করা। যাতে মুসলিমদের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়। ইতিমধ্যেই কিছু বিজেপি শাসিত রাজ্যে ইউসিসি চালু হয়েছে। এই বিধির সপক্ষে বেশ কয়েকবার সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বছর দু'য়েক আগে স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে ইউসিসি-র পক্ষে কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, বর্তমান দেওয়ানি বিধি সাম্প্রদায়িক। এ দেশে বৈষম্যমূলক আইনের কোনও স্থান নেই। সেই দিন তিনি সব ধর্মের মানুষের জন্য ধর্মনিরপেক্ষ দেওয়ানি বিধির পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। গত বছর সংসদে দাঁড়িয়েও ইউসিসি-র পক্ষে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।