Mamata Banerjee: শনিবার ব্রিগেডের মাঠে শপথগ্রহণ করেন বিজেপি সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই দিনে বিকেলে কালীঘাটে নিজের বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি ঘোষণা করেন, বাম-কংগ্রেস-অতিবাম সব দলের সঙ্গেই জোট করতে রাজি তিনি। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, 'চার দিকে সন্ত্রাসের বজ্রাঘাত চলছে। আমি সমস্ত রাজনৈতিক দল, ছাত্র-যুব সংগঠন, এনজিও-কে বলব জোট বাঁধুন। আমরা বিজেপির বিরুদ্ধে একটা মঞ্চ গড়তে চাই।' তিনি আরও বলেন, 'বাম, অতিবাম, যে কোনও জাতীয় দল, যে যেখানে আছেন, আসুন আমরা জোট বাঁধি। কেউ চাইলে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত আমি অফিসেই থাকব। আমাদের প্রথম শত্রু বিজেপি।' কিন্তু বাড়িতে অপেক্ষায় বসে থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও পর্যন্ত দেখা নেই বিরোধীদের।

তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কোনও বিরোধী নেতা দেখা করতে না এলেও স্থানীয় এবং অন্যান্য জায়গা থেকে বহু মানুষ আসেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলের সঙ্গেই বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসে দেখা করেন। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, 'আগামিদিনেও লড়াই জারি থাকবে।' অন্যদিকে, মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূলের ‘ডিজিটাল টিমের’ সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম তৃণমূলের ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’দের সঙ্গে বৈঠক। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির কারণে তৃণমূলের ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’দের মনোবন না-ভাঙার বার্তা দিয়েছেন দলের সর্বময়নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে এ-ও মনে করিয়ে দেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই থামবে না। আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য সকলকে প্রস্তুত হওয়ার বার্তা দিয়েছেন দলনেত্রী।
ওই বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তিনিও অভিযোগ করেন, গণনায় কারচুপি করে হারানো হয়েছে তৃণমূলকে। আগামী লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত হওয়ার কথাও শোনা গিয়েছে মমতা-অভিষেকের কণ্ঠে। তাঁদের কথায়, ‘আমরা হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে।’ রাজ্যের বাইরে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথাও বলেন মমতা-অভিষেক। তিন বছর পরের লোকসভা নির্বাচনে ওই জোট মজবুত করার জন্য লড়াইয়ের কথা বলেন তাঁরা। আগামী শুক্রবার কালীঘাটের বাসভবনে জেলার শীর্ষ নেতাদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূল নেত্রী। ভোটে পরাজয়ের পর তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রণকৌশল নির্ধারণ এবং বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। কালীঘাটের দফতর থেকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার সভাপতিদের কাছে লিখিত বার্তা পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের। সেই বৈঠকের আগে তৃণমূলের ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’দের নিয়ে একপ্রস্ত বৈঠক সেরে নিলেন মমতা-অভিষেক। এর আগে দলের জয়ী বিধায়কদেরও নিয়েও বৈঠক করেছেন তাঁরা।