...
...
Next Story

রামকৃষ্ণ থেকে সত্যজিৎ-উত্তম! প্রথম ভাষণেই বঙ্গপ্রেমী প্রমাণে মরিয়া নীতীন

দলীয় কর্মীদের প্রতি সর্বভারতীয় সভাপতির একটিই বার্তা দিলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠনের জন্য বিকশিত বাংলা গড়ে তুলতে হবে।

Updated on: Jan 28, 2026, 16:26:10 IST
Advertisement

সম্প্রতি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একপ্রকার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি বঙ্গে লড়ছে শুধুমাত্র হিন্দু ভোটের আশায়। এমনকী হিন্দুদের বাড়িতে গেরুয়া পতাকা টাঙানোর নিদানও দিয়েছিলেন তিনি। শুভেন্দুর সেই উগ্র হিন্দুত্ববাদের নীতি বঙ্গের প্রথম ভাষণেই একপ্রকার খারিজ করে দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। দুর্গাপুরে ‘কমল মেলা’য় এসে তিনি ভাষণ শুরু করলেন কাজি নজরুল ইসলামের নামে। একই সঙ্গে বঙ্গের অন্য মনীষীরাও উঠে এলেন তাঁর ভাষণে।

প্রথমে ভাষণেই বঙ্গপ্রেমী প্রমাণে মরিয়া নীতীন নবীন (@NitinNabin X)
প্রথমে ভাষণেই বঙ্গপ্রেমী প্রমাণে মরিয়া নীতীন নবীন (@NitinNabin X)

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনকে প্রথমবার রাজ্যে অভ্যর্থনা জানাতে মেলার আয়োজন করে বাংলার সংস্কৃতিকে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। আর সেই মেলা থেকে একের পর এক বাঙালি, যাঁদের জন্য বাঙালি গর্ব অনুভব করে, তাঁদের নাম করে বঙ্গপ্রেমী প্রমাণের মরিয়া চেষ্টা চালালেন নীতীন নবীন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুর ইস্পাতনগরীর রাজীব গান্ধী স্মারক ময়দানে কমল মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। মঞ্চে উঠে প্রথমেই ভারত মাতার মূর্তিতে পুষ্পাঞ্জলি দিতে দেখা যায় বিজেপি সভাপতিকে। সেখান থেকে দলীয় কর্মীদের প্রতি সর্বভারতীয় সভাপতির একটিই বার্তা দিলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠনের জন্য বিকশিত বাংলা গড়ে তুলতে হবে। বাকি পুরো কথাই তিনি বললেন বাঙালি মনীষী থেকে খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বদের নিয়ে।

কী বললেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি?

বাংলায় নীতীন নবীন বলেন, 'বঙ্গভূমিকে আমি প্রণাম করছি।' এরপর একে একে রাজা রামমোহন রায়, ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যজিত রায় থেকে উত্তম কুমারের নামও উঠে আসে নীতীনের বক্তৃতায়। তিনি বলেন, 'এই রকম মেলার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ীদের কুটির শিল্প থেকে সংস্কৃতির মঞ্চ এই মেলা।' বাংলার যুব ও মাতৃ শক্তিকে প্রণাম জানিয়ে নীতীন বলেন, 'বাংলার ভূমিকে আমার প্রণাম। বাংলা কী করে এগিয়ে যাবে তা নিয়ে চিন্তা করেন প্রধানমন্ত্রীও। বাংলার সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিকশিত ভারতের সঙ্গে বিকশিত বাংলা গড়তে লড়াই করতে হবে বাংলার যুব ও নারীশক্তিকে। বাংলার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ আমরা। বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।' এরপরই মা দুর্গা ও কালীর নাম নিয়ে তিনি বলেন, 'মাতৃ আরাধনার কেন্দ্র এই বাংলা। মা দুর্গার মাটি এই বাংলা। তাই ভারতে বাংলার নারীশক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা লড়াই করব।' তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাংলার মাটিতে প্রথম ভাষণে সেভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য শোনা গেল না নীতীনের মুখে। বরং কোনও রাজনৈতিক আক্রমণ বা তৃণমূল-বিরোধী স্লোগান না দিয়ে কৌশলে বাঙালিয়ানায় শান দেওয়ার চেষ্টা করলেন তিনি।

অস্বস্তিতে বিজেপি

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe