আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়েও স্পষ্ট নয়। থানাতেও দীর্ঘ হয়েছে মিসিং ডায়েরির লিস্ট। আনন্দপুরের কারখানায় ওই ভয়াবহ ঘটনার প্রায় ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় পরে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু এলাকায় যান। তবে এখনও এলাকায় যাননি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও কেন যাননি আগেও তার ব্যখ্যা দিয়েছিলেন। বুধবার ফের সাংবাদিক বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ তুললেন। একইসঙ্গে গোটা ঘটনার জন্য রাজ্য সরকারের তুলোধনা করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছেন।

অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এখনও পর্যন্ত কেন আনন্দপুরে এলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? বুধবার সেই প্রশ্ন তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কটাক্ষ, 'মনে হয়, সেখানে তাঁর বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকজন নেই বলেই মুখ্যমন্ত্রী যাননি। তাই আইপ্যাক প্রণীত নাটকে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। রাজ্যে কার্যত সরকার বলে কিছু নেই। জলাভূমি বুজিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনি কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। পর-পর অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। কোনও হেলদোল নেই। আমরা রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর পদত্যাগ দাবি করছি। সেইসঙ্গে ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি। এতে কর্পোরেশন, নরেন্দ্রপুর থানা, স্থানীয় কাউন্সিলর, স্থানীয় তৃণমূলের বিধায়ক, শাসক ঘনিষ্ঠরা যুক্ত বলে আমরা মনে করি।'
সরকারের তীব্র সমালোচনা করে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'আমরা মনে করি ওই এলাকায় এই দুর্ঘটনার পিছনে দুর্নীতি আছে, স্থানীয় বিধায়ক, থানা, পৌরসভা এবং অবৈধ কারখানার মালিকের যোগসাজসে জলাজমি ভরিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনি পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। একাধিক দুর্ঘটনা গত কয়েক বছরে ঘটার পরেও এই সরকার, অগ্নিনির্বাপণ দফতর কোনও শিক্ষা নেয়নি।' এদিনের বৈঠক থেকেই বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিরও ঘোষণা করে দেন বিরোধী দলনেতা। কেন এতদিন যাননি তার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, 'আগামীকাল বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বে ২০ সদস্য দল ওই এলাকায় যাবে। আমরা দু’দিন পর যাচ্ছি কারণ, যাঁরা দগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন তাঁদের যথাযথ দেহ উদ্ধারের কাজ হোক। ফায়ার ব্রিগেড, ফরেন্সিক, পুলিশ, উদ্ধারকারীদের কাজে যেন কোনও বাধা না আসে তাই আমরা বড় দল নিয়ে যাইনি। কেবল মাত্র অশোক দিন্দা-সহ এই এলাকায় আমাদের দলের নেতৃত্বরা সহযোগিতার কাজ করেছেন। আগামীকালই পরিদর্শনের পরে আমরা একটা প্রতিবাদ মিছিল করব। নরেন্দ্রপুর থানার উদ্দেশ্যে যাব। তারপরেও ওরা ব্যবস্থা না নিলে নিখোঁজ পরিবারের লোকজনকে নিয়ে বিরোধী দলনেতা যেখানে যাওয়া দরকার, দরকার হলে সচিবালয়ের সামনে গিয়ে হলেও বৃহত্তর ধরনা অবস্থা করতে হলে বিজেপি সেটা করবে।'