...
...
Next Story

'অবাধ এবং সুষ্ঠু ভোট...,' প্রশাসনে রদবদল নিয়ে হাইকোর্টে সওয়াল কল্যাণের, কী বলল কমিশন?

সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্যের আমলা এবং পুলিশকর্তাদের বদলির বিরোধিতা মামলার শুনানি হয়।

Published on: Mar 23, 2026, 20:42:14 IST
Advertisement

প্রতিটি সিদ্ধান্তের পিছনে অনেক কারণ রয়েছে। বিধানসভা ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গে আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের অপসারণ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে এমনটাই জানাল নির্বাচন কমিশন। গত রবিবার মধ্যরাত থেকে রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল শুরু করে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার-একের পর এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। জেলাস্তরেও একাধিক জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে বদল করা হয়েছে। এরপরেই নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল

রাজ্যে আমলা ও পুলিশকর্তাদের অপসারণ নিয়ে হাইকোর্টে কী বলল নির্বাচন কমিশন? (HT_PRINT)
রাজ্যে আমলা ও পুলিশকর্তাদের অপসারণ নিয়ে হাইকোর্টে কী বলল নির্বাচন কমিশন? (HT_PRINT)

সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্যের আমলা এবং পুলিশকর্তাদের বদলির বিরোধিতা মামলার শুনানি হয়। উচ্চ আদালতে তৃণমূলের কংগ্রেসের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'রাতারাতি আধিকারিকদের অপসারণ করা হয়েছে। মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র সরিয়ে দিয়েছে। পঞ্চায়েত দফতরের সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের সঙ্গে তাঁর কী সম্পর্ক? জাভেদ শামিমের মতো দক্ষ অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে সরিয়ে দিয়েছেন। তিনি এক মাস হল দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁকে সরানোর পিছনে কারণ কী?' এরপরেই তিনি সওয়াল করেন, '১৩ জন পুলিশ সুপারকে সরিয়ে দিয়েছে। বেশিরভাগ অফিসারকে কোনও দায়িত্ব দেয়নি। এই সব অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যদি কোনও বিপর্যয় হয়। কে সামলাবে?'

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে পরিসংখ্যান তুলে ধরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, '৬৩ জন পুলিশ অফিসারকে সরিয়ে দিয়েছে। ১৬ জন আইএএস অফিসারকে সরিয়ে দিয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'স্বরাষ্ট্রসচিব নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁকে শুধু সরিয়েই দেয়নি, অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে তামিলনাড়ুতে পাঠিয়ে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সমস্যা মুখ্যসচিব দেখছেন। তাঁকে সরিয়ে দিল। কমিশন কী ইচ্ছাকৃত ভাবে এমন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে? এসআইআর শুরুর সময় থেকে কমিশন অফিসারদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। এসআইআরের সময় ওই অফিসারদের কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেনি কমিশন। নির্বাচন ঘোষণার পরে তারা কেন হঠাৎ অপসারণ করছে? কী এমন হল? শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া আর অন্য কোনও রাজ্যে এমন হয়নি।'

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কী বললেন?

এরপরেই আদালতে কমিশনের আইনজীবী বলেন, 'নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে, এটা বলছি না। কোনও সাংবিধানিক সংস্থার প্রচুর ক্ষমতা থাকে, এমন নয়য়। তবে কোনও কিছু পরিচালনার জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা রয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'অবাধ এবং সুষ্ঠু ভোট পরিচালনার জন্য এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই সব সিদ্ধান্তের পিছনে অনেক কারণ রয়েছে। পাঁচটি রাজ্যে ভোট হচ্ছে, সব জায়গায় পরিস্থিতি এক নয়। অন্যত্র অফিসার বদলি করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়।' মামলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমিশনের আইনজীবীর সওয়াল করেন, 'জনস্বার্থ মামলা করেছেন একজন আইনজীবী। তিনি রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করেন। রাজ্য সরকারের আইনজীবীদের প্যানেলে রয়েছেন। একজন সরকারি আইনজীবী জনস্বার্থ মামলা করতে পারেন না।'পাশাপাশি, হাইকোর্টে কমিশন বলে, 'যে সব রাজ্যে নির্বাচন হচ্ছে সেখানে অফিসারদের বদলির তালিকা আমরা দিচ্ছি। পাঁচ রাজ্যের ভোটের জন্য বিভিন্ন রাজ্য থেকে অফিসার নিয়ে আসা হয়েছে সেই তালিকাও আমরা দিচ্ছি।'

এদিন শুনানি শেষ হলেও বিতর্ক থামেনি। আগামী বুধবার দুপুরে ফের প্রধান বিচারপতির এজলাসে এই মামলার শুনানি হবে। নবান্ন বনাম নির্বাচন কমিশনের এই দড়ি টানাটানি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe