Ritabrata-Abhishek on Asish Banerjee: স্বাধীনতা দিবসের পরের সকালেই রামপুরহাটে প্রাক্তন মন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। রবিবার সকালে তাঁর বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিঠিও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ময়নাতদন্তও করা হচ্ছে।

৭৪ বছর বয়সি আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় রামপুরহাটের দীর্ঘদিনের বিধায়ক ছিলেন। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারও ছিলেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা কিছুটা কমে গিয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এর আগে জুন মাসে তিনি বীরভূম জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান এবং জেলা কোর কমিটির সদস্যপদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
তাঁর মৃত্যুর পর উদ্ধার হওয়া চিঠি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে নিজের রাজনৈতিক জীবনে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনীতিতে আসাটাই ভুল ছিল বলেও আক্ষেপের কথা উঠে এসেছে। তবে চিঠিটির সত্যতা এবং মৃত্যুর সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে পুলিশের তদন্ত এখনও চলছে।
এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে দলের কিছু মানুষের কর্মকাণ্ডের দায় নিরীহ ও পুরনো নেতাদেরও বহন করতে হয়েছে। ঋতব্রতের দাবি, অপমান, কটূক্তি এবং দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের প্রভাব আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর পড়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আশিসবাবু বহুবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বিভিন্ন বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু তাঁর বক্তব্য যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
অন্যদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বিজেপি এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেছেন, ধারাবাহিক প্রচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে একজন রাজনীতিককে হেনস্তার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, মৃত্যুর আগে লেখা চিঠিতে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় যে যন্ত্রণা ও অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করেছেন, তা উপেক্ষা করা যায় না।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বিজেপি এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেছেন, ধারাবাহিক প্রচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে একজন রাজনীতিককে হেনস্তার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, মৃত্যুর আগে লেখা চিঠিতে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় যে যন্ত্রণা ও অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করেছেন, তা উপেক্ষা করা যায় না।
{{/usCountry}}ফলে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু এখন শুধুমাত্র একটি মর্মান্তিক ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, তা পরিণত হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে। একদিকে দলের অভ্যন্তরীণ চাপ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে বিজেপি ও সংবাদমাধ্যমকে ঘিরে পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিঠিতে উল্লিখিত বিষয়গুলির সঙ্গে ঘটনার সম্পর্ক নিশ্চিত করতে পুলিশের তদন্তের ফলই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।