দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় ফিরে বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ফের সরব হলেন বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন প্রথমে সাধারণ মানুষের কাছে কোটা সংস্কারের আন্দোলন বলে মনে হলেও, পরে দেখা যায় তার নেপথ্যে ছিল ইসলামি মৌলবাদী শক্তি। একই সঙ্গে আওয়ামি লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

রবিবার এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তসলিমা বলেন, দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলা ছাত্র আন্দোলন তিনি পুরোপুরি অনুসরণ করেননি। তবে আন্দোলনের একটি ছোট ভিডিও দেখে তাঁর বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের কথা মনে পড়ে যায়।
তাঁর কথায়, প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন ছাত্ররা শুধু কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। এমনকি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাদের দাবি মেনে নিতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয় এবং সরকারই ক্ষমতাচ্যুত হয়।
তসলিমার দাবি, পরে জানা যায় সেই আন্দোলনের পিছনে ইসলামি মৌলবাদী গোষ্ঠীর প্রভাব ছিল। তাঁর অভিযোগ, সেই ঘটনার পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভালো হয়নি। বরং মৌলবাদী শক্তির প্রভাব বেড়েছে। তাই ছাত্র আন্দোলনের মতো ঘটনাগুলি নিয়ে এখন তিনি অনেক বেশি সতর্ক এবং উদ্বিগ্ন।
আওয়ামি লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েও সরব হন তসলিমা নাসরিন। তাঁর মতে, কোনও গণতান্ত্রিক দেশে কোনও রাজনৈতিক দলকে এভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়। শেখ হাসিনাকে যেভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে, সেটিও প্রশ্নের মুখে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তসলিমা বলেন, আওয়ামি লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা যত দ্রুত সম্ভব তুলে নেওয়া উচিত। দলটিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর আশা, শেখ হাসিনা একদিন আবার বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারবেন।
{{/usCountry}}তসলিমা বলেন, আওয়ামি লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা যত দ্রুত সম্ভব তুলে নেওয়া উচিত। দলটিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর আশা, শেখ হাসিনা একদিন আবার বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারবেন।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামি লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর থেকে দলের বহু নেতা-কর্মী হিংসার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তসলিমা।
বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদীদের হুমকির মুখে ১৯৯৪ সালে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। পরে ২০০৪ সাল থেকে তিনি ভারতে বসবাস করছেন। তবে ২০০৭ সালে তাঁর লেখাকে কেন্দ্র করে কলকাতায় বিক্ষোভের জেরে তাকেও এই শহর ছেড়ে যেতে হয়েছিল।
প্রায় ১৯ বছর পর শুক্রবার ফের কলকাতায় ফিরেছেন তসলিমা। শহরে ফিরে আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন, কখনও ভাবেননি আবার কলকাতায় ফিরতে পারবেন। প্রথমদিকে তাঁর বিশ্বাস ছিল একদিন ফিরবেন। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, সেই আশা ততই ক্ষীণ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেক্যুলার মিশনের উদ্যোগে কলকাতায় আসার সুযোগ হয়েছে বলে জানান তিনি।
কলকাতায় ফিরে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ছাত্র আন্দোলন, শেখ হাসিনার অপসারণ এবং আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধ হওয়া নিয়ে তাঁর বক্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু করেছে।