Mamata's resignation row: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন সংকটের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতা এসে গেলেও নাটকীয় মোড় নিয়েছে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান। তিনি নিজে পরাজিত হওয়া সত্ত্বেও ইস্তফা দিতে নারাজ বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে জনমনে প্রশ্ন উঠছে—মুখ্যমন্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন, তবে কি রাজ্যপাল তাঁকে বরখাস্ত করতে পারেন? নিয়ম ঠিক কী বলছে?
পরাজয় বনাম জেদ: নবান্নের অলিন্দে অস্থিরতা

২০২৬-এর ফলাফল তৃণমূল শিবিরের কাছে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কেন্দ্রে পরাজিত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা হারিনি। তাই আমি কেন ইস্তফা দেব?’ গণতন্ত্রে যেখানে পরাজয়ের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ একটি স্বাভাবিক দস্তুর, সেখানে মমতার এই অনড় মনোভাব নিজে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ ৭ মে পর্যন্ত। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়, যার প্রাথমিক ধাপ হল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ।
রাজ্যপালের হাতে কী কী অস্ত্র রয়েছে?
১) সরাসরি বরখাস্ত: রাজভবন থেকে একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে রাজ্যপাল সরাসরি সরকারকে বরখাস্ত করতে পারেন।
২) বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাচাই: রাজ্যপাল সরাসরি বরখাস্ত না করে মুখ্যমন্ত্রীকে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকার নির্দেশ দিতে পারেন। সেখানে যদি সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয় (যা বর্তমান নির্বাচনী ফলের নিরিখে নিশ্চিত), তবে ইস্তফা দেওয়া ছাড়া আর কোনও পথ খোলা থাকবে না।
৩) ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ বা রাষ্ট্রপতি শাসন: মুখ্যমন্ত্রী পরাজিত হওয়ার পর পদত্যাগ না করা মানেই রাজ্যে একটি ‘সাংবিধানিক অচলাবস্থা’ তৈরি হওয়া। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ পাঠাতে পারেন। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া মানেই রাজ্যের সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে চলে যাওয়া এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদের বিলুপ্তি ঘটা।
{{/usCountry}}৩) ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ বা রাষ্ট্রপতি শাসন: মুখ্যমন্ত্রী পরাজিত হওয়ার পর পদত্যাগ না করা মানেই রাজ্যে একটি ‘সাংবিধানিক অচলাবস্থা’ তৈরি হওয়া। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ পাঠাতে পারেন। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া মানেই রাজ্যের সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে চলে যাওয়া এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদের বিলুপ্তি ঘটা।
{{/usCountry}}তবে আইনজ্ঞদের মতে, সংবিধানের ঊর্ধ্বে কেউ নন। রাজ্যপাল যদি কঠোর হন এবং সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করেন, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুর্সি আঁকড়ে থাকার চেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য। এখন দেখার, ৭ মের সময়সীমার আগে বাংলা কোন নতুন মোড় নেয়। রাজভবন কি রাজপথের লড়াইয়ের সাক্ষী হবে, নাকি আইনি পথেই বিদায় নিতে হবে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে? উত্তর দেবে সময়।