অপেক্ষার অবসান। কলকাতাবাসীর যাতায়াত এবার হতে চলেছে আরও সহজ। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই এবং প্রশাসনিক জটিলতা সরিয়ে অবশেষে গতির পথে চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্প।অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা পুলিশ মেট্রোকে কাজ শুরু করার অনুমতি দিল। যে কাজ আটকে ছিল মাত্র কয়েকশো বর্গমিটার জায়গার জন্য, তা এবার এগোতে চলেছে নতুন সময়সীমা মেনে। নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইনের শেষ অংশে এই কাজটি অত্যন্ত জরুরি। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন মিটলেই শুরু হবে কাজ।
কবে শুরু হচ্ছে চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ?

কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৫ মে-র পর থেকে চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ শুরু করতে পারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড বা আরভিএনএল। প্রথম দফায় কয়েক দিনের ট্রাফিক ব্লকের অনুমতি দেওয়া হবে, পরে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও দিন বরাদ্দ করা হবে। আরভিএনএল জানিয়েছে, বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই তারা এই কাজ শেষ করতে চায়। ৩৬৬ মিটার লাইন জোড়া লাগলেই নিউ গড়িয়া-কলকাতা বিমানবন্দর অরেঞ্জ লাইনের কাজ সম্পূর্ণ হবে। চিংড়িঘাটা মোড়েই এই অংশটি আটকে ছিল। রাজ্য সরকার সেই অনুমতি দিচ্ছিল না বলেই অভিযোগ।
সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও, তাতে কোনও সুরাহা মেলেনি রাজ্যের। উল্টে মামলাটি ফের হাইকোর্টেই পাঠিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ২৩ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। আদালত স্পষ্ট জানায়,
১. রাজ্যের গাফিলতির কারণে চিংড়িঘাটা মেট্রোর বকেয়া কাজ এগোচ্ছে না।
{{/usCountry}}১. রাজ্যের গাফিলতির কারণে চিংড়িঘাটা মেট্রোর বকেয়া কাজ এগোচ্ছে না।
{{/usCountry}}২. উন্নয়নমূলক কাজকে রাজনীতির মধ্যে টেনে আনা উচিত নয়।
৩. রাজ্য সরকার মামলাটি প্রত্যাহার না করলে সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হবে।
সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের আগের নির্দেশই বহাল রাখে, যেখানে রাজ্য সরকার, পুলিশ কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার (ট্রাফিক) এবং ডেপুটি কমিশনারকে এনওসি দিতে বলা হয়েছিল।
দীর্ঘদিনের টানাপড়েন
চিংড়িঘাটার মাত্র ৩১৬ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে কাজের অনুমতি না মেলায় পুরো প্রকল্প থেমে ছিল। ওই মোড়ে মেট্রোর পিলার ও লাইন বসাতে হলে কিছুদিন বাইপাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, এমনটাই জানিয়েছিল নির্মাণকারী সংস্থা ও মেট্রো কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই অনুমতি দিচ্ছিল না বলেই অভিযোগ। বহু বৈঠক, হাইকোর্টের নির্দেশ, সবকিছু সত্ত্বেও সমস্যা কাটছিল না। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের কড়া মন্তব্য ও নির্দেশের পর নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য। বিজ্ঞপ্তি জারি করে অনুমতি দেওয়ায় এবার সম্ভবত বহু প্রতীক্ষিত চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ ফের গতিতে ফিরবে। নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই লাইনের সুবিধা পাবেন। চিংড়িঘাটার ছোট একটি অবরোধই এতদিন বড় বাধা হয়ে ছিল। এবার আদালতের হস্তক্ষেপ ও নয়া অনুমতির ফলে কাজ ফের শুরু হওয়ায় প্রকল্পটি দ্রুত সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।