দিনভর এদিন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়েছে আইপ্যাকের অফিস ও আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি ঘিরে। এদিকে, ইডির তল্লাশির মাঝে আইপ্যাক সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ির পরে বৃহস্পতিবার সংস্থার সল্টলেকের দফতরেও পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে, ইডির তল্লাশির পর শেকসস্পিয়ার সরণী থানায় একটি এফাইআর দায়ের করে আইপ্যাকের কর্ণধার ও সহপ্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের পরিবার। কে এই প্রতীক জৈন? দেখে নেওয়া যাক একনজরে।

থানায় এফআইআর দায়ের:-
বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা থেকে টানা ৯ ঘণ্টা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। দুপুর ৩ টেয় ইডির কর্তারা বেরিয়ে যান প্রতীকের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি থেকে। এরপর প্রতীকের স্ত্রী শেক্সপিয়র সরণি থানায় ইডির বিরুদ্ধে নথি চুরির অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করেছে। প্রতীকের পরিবারের দাবি, তাঁদের বাড়ি থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি করেছে ইডি।
কে প্রতীক জৈন?
পুরনো এক কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনায় আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ভোটমুখী বাংলায় প্রতীকের বাড়ি ও অফিসের তল্লাশিতে নামে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট।
প্রতীকের পরিচিতি হিসাবে উঠে আসে আইপ্যাক। ‘ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল কমিটি’ বা আইপ্যাকের কর্ণধার তথা সহ প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক। এই সংস্থা মূলত রাজনৈতিক দলগুলির কৌশলগত দিক দেখভাল করে। লিঙ্কড ইন-র তথ্য বলছে, প্রতীক, ২০০৮ সালে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, বম্বে বা আইআইটি বম্বেতে ভর্তি হন। মেটালার্জিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেটেরিয়াল সায়েন্স ছিল তাঁর বিষয়। তিনি আইআইটি থেকে বিটেক পাশ করার পর অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কে কিছু দিন ইন্টার্ন হিসাবে ছিলেন বলে তথ্য মিলছে। পরবর্তীতে ২০১২ সালে তিনি তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা ডেলয়েটে যোগ দেন। সেখানে ১৫ মাস কর্মরত ছিলেন প্রতীক। ২০১৩ সালে সিটিজেনস ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নেন্স নামের একটি সংস্থা তৈরি করেন প্রতীক। ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি সেখানে কাজ করেন। এরপর তাঁর সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের আলাপ। প্রশান্ত কিশোর হয়ে ওঠেন আইপ্যাকের মুখ। কর্মসূত্রে এই সংস্থা তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা হিসাবে রয়েছে।