কাঁপুনি, আতঙ্ক, ভয়- শুক্রবার দুপুরের ভূমিকম্প রীতিমতো কাঁপিয়ে দিল কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলার মানুষের হৃদয়। উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া, বারাসতের মতো এলাকায় ভালোমতো অনুভূত হয়েছে কম্পন। তাছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলির মতো জেলার মানুষও কেঁপে উঠেছেন। ভারতের জাতীয় ভূতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৫। যা মাঝারি। কিন্তু ভালোমতো কেঁপে উঠেছে কলকাতা-সহ পার্শ্বর্বর্তী জেলা। আপ সেটার নেপথ্যে আছে ভূমিকম্পের উৎসস্থলের সঙ্গে নৈকট্য। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের যে জায়গা আদতে ভূমিকম্পের উৎসস্থল, সেখান থেকে ভারতের সীমান্ত বেশি দূরে নয়। পশ্চিমবঙ্গের টাকি থেকে দূরত্ব মেরেকেটে ২৬ কিলোমিটারের মতো। আর কলকাতা থেকে মাত্র ৭৬ কিমি দূরে অবস্থিত ভূমিকম্পের উৎসস্থল।
কলকাতা বিপজ্জনক জায়গায় অবস্থিত, বিপর্যয়ের ভয় ধরল মনে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার কানঘেঁষে বড় বিপর্যয় বেরিয়ে গেল। কারণ মহাদেশীয় ভাঙন রেখার কাছেই এবারের ভূমিকম্প হয়েছে। আর সেই মহাদেশীয় ভাঙন রেখার উপরেই অবস্থিত কলকাতা এবং বাংলাদেশ। যে এলাকা পলিমাটি দিয়ে তৈরি। ফলে রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা যদি ছয় পেরিয়ে যায়, তাহলেই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আছে। এবার কম্পনের মাত্রা ৫.৫ ছিল (খাতায়কলমে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প) বলে বড়সড় বিপদ হয়নি। একেবারে কানঘেঁষে বেরিয়ে গেল বড় বিপর্যয়।
কম্পন শেষ হওয়ার পরও মাথা ঘুরছিল, আতঙ্কিত যুবতী
আর এবার যে কাঁপুনিটা মালুম হয়েছে, তা যে আগের থেকে অনেক বেশি, তা একবাক্যে স্বীকার করে নিচ্ছে অনেকেই। অফিসে থাকার সময় যেমন ভূমিকম্পের টের পান কলকাতার এক যুবতী। দ্রুত বেরিয়ে আসেন অফিসের বাইরে। তিনি বলেন, ‘আগেও কলকাতায় অনেকবার কম্পন অনুভূত হয়েছে। কিন্তু এবারের মতো কম্পন কখনও অনুভব করিনি। এতটা জোরালোভাবে কম্পন অনুভূত হয়নি আগে। কাঁপুনি শেষ হওয়ার পরে মনে হচ্ছিল যে মাথা ঘুরছে।’
'প্রকৃতি আস্তে-আস্তে বোঝাচ্ছে যে ভয়ানক আর কিছু হয় না'
একইসুরে বনগাঁর এক যুবক বলেন, ‘আমি এখনও পর্যন্ত কোনও ভূমিকম্পে এমন ভয় পাইনি। আসলে প্রকৃতি আস্তে-আস্তে আমাদের বোঝাচ্ছে যে তার থেকে ভয়ানক আর কিছু হয় না।’ অপর একজন বলেন, ‘পুরো কলকাতাকে যেন দু’মিনিটের জন্য থমকে দিয়ে গেল।' নৈহাটির এক যুবতী বলেন, ‘ভয়ঙ্করভাবে কেঁপে উঠল ঘরবাড়ি।’
{{/usCountry}}একইসুরে বনগাঁর এক যুবক বলেন, ‘আমি এখনও পর্যন্ত কোনও ভূমিকম্পে এমন ভয় পাইনি। আসলে প্রকৃতি আস্তে-আস্তে আমাদের বোঝাচ্ছে যে তার থেকে ভয়ানক আর কিছু হয় না।’ অপর একজন বলেন, ‘পুরো কলকাতাকে যেন দু’মিনিটের জন্য থমকে দিয়ে গেল।' নৈহাটির এক যুবতী বলেন, ‘ভয়ঙ্করভাবে কেঁপে উঠল ঘরবাড়ি।’
{{/usCountry}}